• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
Headline
ঢাকায় ফুটবল খেলে নিরাপদ ভারত এনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ রাতেও মিলবে সূর্যের আলো, মহাকাশে বসবে ৫০ হাজার আয়না পিরোজপুরে চেরাগ গ্রন্থাগারের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের অনুষ্ঠানে চীনা শিক্ষার্থীদের ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স পরিবেশনা রফতানি ব্যাহত, কারখানায় আগুন: ক্ষতির মুখে পোশাকশিল্প শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঢামেক হাসপাতালে দুদক চেয়ারম্যানের আকস্মিক পরিদর্শন, রোগীদের নানা অভিযোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার-শিক্ষার্থী সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: রুহুল কবির রিজভী গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে জামায়াতের মিছিল

পাথরঘাটায় চায়না দুয়ারী জালের ফাঁদে ধ্বংস হচ্ছে উপকূলের মৎস্য সম্পদ

Reporter Name / ১৩৭ Time View
Update : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

মো. মাহবুবুর রহমান , পাথরঘাটা : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নদী, খাল ও বিলজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার। জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা মাছ, রেণু, পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী এই সূক্ষ্ম ফাঁসের জালে আটকা পড়ে নিধন হচ্ছে। ফলে শুধু বর্তমানের মাছ নয়, ভবিষ্যতের মৎস্যসম্পদও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জেলে, সচেতন নাগরিক ও মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের ভাষায় ‘দুয়ারী জাল’ নামে পরিচিত এই লম্বা গোলাকার জাল এখন নদীর স্রোতের মুখ, খাল-বিল এবং উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় সারি সারি বসানো হচ্ছে। অল্প পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরার আশায় একশ্রেণির জেলে এই জাল ব্যবহার করলেও এর ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, কয়েক বছর আগেও নদীতে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, বর্তমানে সেই চিত্র আর নেই। মাছ এবং রেণু পোনা অবস্থায়ই দুয়ারী জালে আটকা পড়ে মারা যাওয়ায় নদীতে বড় মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উপকূলীয় নদ-নদীতে মাছের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ ফুট লম্বা এবং এক থেকে দেড় ফুট চওড়া করে তৈরি করা হয় এই জাল। এর ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে পানি ছাড়া প্রায় কিছুই বের হতে পারে না। ফলে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীও এতে আটকা পড়ে মারা যায়। এতে জলজ জীববৈচিত্র্য, খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলেদের দাবি, প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালিয়ে চায়না দুয়ারী জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করলে এই ক্ষতিকর জালের বিস্তার অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে জাল প্রস্তুতকারী ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

পাথরঘাটা উপজেলার সমাজকর্মী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংকল্প ট্রাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ বলেন, “চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে। জেলেদের বোঝাতে হবে, এই জাল শুধু নদী-খাল-বিল নয়, তাদের ভবিষ্যৎ জীবিকা ও দেশের মৎস্যসম্পদকেও ধ্বংস করছে।”

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক বলেন, “চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেকেই গোপনে এই জাল ব্যবহার করেন। কেউ এ ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলের নদী-খাল-বিল রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে। তাই নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category