• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে তিন বছর ধরে বর্ষায় চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন শাহিন গাজী, এবারও দিলেন ৭ শতাধিক রিয়েলমির নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন সি১০০এক্সে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ও রিভার্স চার্জিং সুবিধা নাজিরপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তৃণমূল নারীদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সিড মানি দেওয়া হচ্ছে : মন্ত্রী প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়নি : ববি হাজ্জাজ সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও কাজে দেখি ‘সবার পরে বাংলাদেশ : আনু মুহাম্মদ আমি মাঝেমধ্যেই চলে আসবো, কেউ জানতে পারবেন না: আফরোজা খানম হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলেই মিলবে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার উগ্রবাদ-সহিংসতা মোকাবিলায় গবেষণা কাজে লাগানোর আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু ১৬ ডিসেম্বর: বিমানমন্ত্রী

পুরোনো নৌকা, হারানো গুপ্তধনের খোঁজ ও একদল তরুণের অটুট বন্ধুত্ব ‘আউটার ব্যাঙ্কস’

Reporter Name / ৩১ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : সমুদ্রের নীল জল, রোদঝলমলে সৈকত, পুরোনো নৌকা, হারানো গুপ্তধনের খোঁজ, বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া একদল তরুণ আর তাদের অটুট বন্ধুত্ব—‘আউটার ব্যাঙ্কস’কে শুধু একটি টিন সিরিজ বললে এর জনপ্রিয়তার অনেকটাই বাদ পড়ে যায়। ২০২০ সালে নেটফ্লিক্সে যাত্রা শুরু করা সিরিজটি পাঁচ মৌসুমে এসে শেষ হয়েছে। ২০ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে এর পঞ্চম ও শেষ মৌসুম। আর মুক্তির পরই বাজিমাত। মুক্তির প্রথম চার দিনেই সিরিজটি দেখেছেন ৯৪ লাখ দর্শক।
নেটফ্লিক্সের ১৭ থেকে ২৩ আগস্টের সাপ্তাহিক দর্শক তালিকায় সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজ হয়েছে ‘আউটার ব্যাঙ্কস’। শুধু তা-ই নয়, টানা চতুর্থ মৌসুমেও মুক্তির পর নেটফ্লিক্সের টিভি তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিল সিরিজটি।
দীর্ঘদিন ধরে তরুণ দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় এই সিরিজের শেষ মৌসুম নিয়েও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। নতুন মৌসুমে জন বি, সারা ক্যামেরনসহ পরিচিত চরিত্রগুলোর গল্প এগিয়েছে আরও বড় সংকটের দিকে। সিরিজের শেষ অধ্যায় দর্শকদের কতটা টানতে পারে, তা নিয়ে আগেই ছিল কৌতূহল। প্রথম চার দিনের হিসাব বলছে, সেই আগ্রহে এখনো ভাটা পড়েনি।
এই মৌসুমে শেষবারের মতো পর্দায় ফিরেছে জন বি, সারা ক্যামেরন, জেজে, পোপ, কিয়ারা ও ক্লিও। এত দিন যারা একসঙ্গে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, গুপ্তধনের সন্ধানে ছুটেছে, শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে, এবার তাদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত তারা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
‘আউটার ব্যাঙ্কস’-এর গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উত্তর ক্যারোলিনার উপকূলীয় এলাকা আউটার ব্যাঙ্কস। এখানকার বাসিন্দাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভাজনের মধ্যেই বড় হয়েছে জন বি ও তার বন্ধুরা। নিজেদের ‘পোগ’ বলা এই তরুণদের জীবন শুরু থেকেই ছিল তুলনামূলক অনিশ্চিত।
অন্যদিকে ছিল ধনী পরিবারের সন্তানদের নিয়ে গঠিত ‘কুকস’ গোষ্ঠী। এই দুই শ্রেণির দ্বন্দ্বের মধ্যেই ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে প্রেম, অপরাধ ও গুপ্তধনের গল্প।
প্রথম মৌসুমে হারিয়ে যাওয়া বিপুল গুপ্তধনের সন্ধান দিয়ে শুরু হয়েছিল যে অভিযান, সময়ের সঙ্গে তা আরও বড় হয়েছে। একেক মৌসুমে এসেছে নতুন শত্রু, নতুন রহস্য এবং আরও বড় বিপদ। কিন্তু বন্ধুত্বের জায়গাটি থেকে গেছে একই।
শেষ মৌসুমেও সেই বন্ধুত্বই গল্পের অন্যতম চালিকা শক্তি।
সিরিজের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি জন বি ও সারা ক্যামেরন। তাদের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল বিরোধী সামাজিক অবস্থান থেকে। সারা ছিল ধনী ‘কুক’ পরিবারের মেয়ে, আর জন বি ছিল ‘পোগ’দের নেতা।
দুজনের প্রেমের গল্প শুরু থেকেই সহজ ছিল না। পরিবার, সামাজিক অবস্থান, বিপদ এবং গুপ্তধনের রহস্য—সবকিছুই তাঁদের সম্পর্ককে বারবার পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
শেষ মৌসুমে তাঁদের সামনে তাই শুধু কোনো গুপ্তধন খুঁজে পাওয়ার প্রশ্ন নেই। নিজেদের ভবিষ্যৎ, সম্পর্ক এবং এত দিনের অভিযানের পর কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন—সেটিও বড় হয়ে উঠেছে। জন বি চরিত্রে চেজ স্টোকস এবং সারা ক্যামেরনের চরিত্রে ম্যাডেলিন ক্লাইন আবারও এই দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
‘আউটার ব্যাঙ্কস’-এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর বন্ধুত্বের গল্প। জন বি, জেজে, পোপ ও কিয়ারার বন্ধুত্ব কখনো নিখুঁত ছিল না। মতবিরোধ হয়েছে, ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে, কেউ কেউ একে অপরের ওপর রাগ করেছে। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে তারা আবার একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে। শেষ মৌসুমে এই বন্ধুত্ব আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে।
এত দিনের অভিযানে তারা অনেক কিছু হারিয়েছে। নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে, পরিবারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে, শত্রু তৈরি করেছে। ফলে শেষ মৌসুমে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন কোনো রহস্যের সমাধান নয়; বরং নিজেদের বাঁচিয়ে রাখা।
‘আউটার ব্যাঙ্কস’কে শুধু কিশোরদের অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ বললে এর বিস্তৃতি বোঝা যাবে না। প্রথম মৌসুমের পর থেকেই সিরিজটি ধীরে ধীরে বড় হয়েছে।
গুপ্তধনের সন্ধান এখানে কখনোই শুধু অর্থের গল্প ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবার, শ্রেণিবৈষম্য, উত্তরাধিকার, ক্ষমতা এবং মানুষের লোভ।
গুপ্তধন পাওয়ার জন্য চরিত্রগুলো যে ঝুঁকি নেয়, সেটিই বারবার প্রশ্ন তোলে—কোনো সম্পদের জন্য মানুষ কতটা দূর যেতে পারে?
এই প্রশ্নের পাশাপাশি সিরিজটি তরুণ বয়সের আবেগকেও গুরুত্ব দিয়েছে। বন্ধুত্ব, প্রথম প্রেম, নিজের পরিচয় খোঁজা এবং পরিবারের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বিষয়ও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‘আউটার ব্যাঙ্কস’-এর সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত এর গতি। এক পর্ব শেষ হওয়ার আগেই পরের বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কোনো রহস্যের উত্তর মিলতেই নতুন রহস্য সামনে আসে। এর সঙ্গে রয়েছে সমুদ্র, দ্বীপ, নৌকা, ধাওয়া, গুপ্তধন ও অ্যাকশন। ফলে সিরিজটি একই সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চার ও টিন ড্রামার স্বাদ দেয়। তবে দর্শকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চরিত্রগুলো। তারা সুপারহিরো নয়। ভুল করে, ভয় পায়, একে অপরের ওপর রাগ করে, আবার প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ায়। এই মানবিক দুর্বলতাই তাদের দর্শকের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

ডেডলাইন, আইএমডিবি ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category