প্রভাত স্পোর্টস: উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনক্যাকাফের ৪১টি সদস্যদেশই বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অংশীদারত্ব বিক্রির জন্য দেওয়া ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে উয়েফার মতো বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেয়নি কনক্যাকাফ। ফিফা যদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়, সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
কনক্যাকাফের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৈঠকে সদস্যরা প্রস্তাবটি উপস্থাপনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এত কম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ এবং ফিফার সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কাঠামোর কোনো পর্যালোচনা বা অনুমোদন ছাড়াই প্রস্তাবটি আনার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপ আয়োজনের পরও ফিফা ফরোয়ার্ডের বর্তমান ও নতুন কর্মসূচিগুলোর অর্থায়নে কেন বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। পাশাপাশি এই আলোচনা আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং সুশাসনের প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে। আর এসব কারণেই কনক্যাকাফ এবং এর ৪১টি সদস্যদেশ ফিফার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।’
এর আগে চলতি সপ্তাহে ফিফা ঘোষণা দেয়, বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপসহ তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভাষ্য, এই প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হবে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলা সম্ভব হবে, যা ‘বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।’
তবে ঘোষণার পরই বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল সংগঠন ও রাজনীতিকদের কাছ থেকে এ প্রস্তাবের সমালোচনা শুরু হয়। ফিফা এ পরিকল্পনা থেকে না সরে এলে তাদের আয়োজিত প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দেয় উয়েফা।
কনক্যাকাফ উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাও এর সদস্য। বৃহস্পতিবারের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাখ্যানের আগেই কনক্যাকাফ জানিয়েছিল, প্রস্তাবটি দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।
নতুন বিবৃতিতে কনক্যাকাফ বলেছে, ফুটবলের উন্নয়নে কীভাবে ফিফার ‘বিদ্যমান বিপুল আর্থিক রিজার্ভ’ ব্যবহার করা যায়, সেটি নির্ধারণের আহ্বান জানাবে তারা। তাদের মতে, নতুন করে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বদলে আগে ফিফার নিজস্ব তহবিলের ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি তারা আহ্বান জানাবে, যেকোনো সিদ্ধান্ত ফিফার সংবিধান অনুযায়ী কর্মকর্তা ও ফিফা কাউন্সিলের মাধ্যমে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই যেন নেওয়া হয়। কনক্যাকাফ বলেছে, ‘এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে আমরা আবারও স্পষ্ট করে দিচ্ছি, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এবং এর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ফুটবল পরিবারের হাতেই থাকতে হবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশনের (ইউএসএসএফ) পক্ষ থেকে করা পোস্টে লেখা হয়, ‘মার্কিন ফুটবল কনক্যাকাফ এবং এর সদস্যদেশগুলোর পাশে রয়েছে।’