• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
Headline
জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ কিছু বিষয়ের অপপ্রয়োগের শঙ্কা গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্টদের, বিবেচনার আশ্বাস সরকারের হ্যাকিং নিয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করলেন চিফ হুইপ পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষী ভাবেনি আওয়ামী লীগ পালিয়ে বিদায় নেবে: ধর্মমন্ত্রী রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে, সময় দিতে পারছি না: মন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন: মাহবুব উদ্দিন খোকন স্কুল ফিডিং শুধু পুষ্টি নয়, সুশাসনেরও পরীক্ষা: ববি হাজ্জাজ র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী চাইনি: শফিকুর রহমান স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই: শাহে আলম ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিয়েতে এক বছর স্বর্ণ না কেনার আহ্বান মোদির

Reporter Name / ৭৭ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: ভারতীয়দের বিয়ে মানেই স্বর্ণের গয়নার ধুম। কিন্তু ঐতিহ্যে মিশে থাকা এই স্বর্ণ কেনা থেকেই এবার ভারতীয় পরিবারগুলোকে এক বছর বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আপাতদৃষ্টিতে এই আহ্বান অস্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক গভীর অর্থনৈতিক উদ্বেগ। মূলত বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট ও ডলারের বিপরীতে রুপির মান ধরে রাখতেই মোদির এই কৌশল।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী। মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬ ডলারে। এর ফলে ভারতের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
ভারতের অর্থনীতির জন্য অপরিশোধিত তেল ও স্বর্ণ উভয়ই বড় মাথাব্যথার কারণ। এই দুই পণ্যই ভারত মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করে এবং এর মূল্য পরিশোধ করতে হয় মার্কিন ডলারে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫ শতাংশই আমদানি করে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম যখন বাড়ে এবং স্বর্ণের আমদানিও যদি উচ্চহারে বজায় থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান কমতে থাকে। তেল পরিবহন ও শিল্পের জন্য অপরিহার্য হলেও স্বর্ণ কেনাকে মূলত ‘বিলাসী ব্যয়’ হিসেবে দেখা হয়। তাই সংকটের সময় স্বর্ণ আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করতে চায় সরকার।
অতিরিক্ত সোনা আমদানির লাগাম টানতে ভারত আগেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অতীতে স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি, আমদানিতে কড়াকড়ি এবং কাগুজে স্বর্ণ বা গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প উৎসাহিত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে রুপির মান যখন রেকর্ড নিচে অবস্থান করছে, তখন তেলের বাড়তি দামের সঙ্গে স্বর্ণের আমদানি যোগ হলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মোদি কেবল স্বর্ণ না কেনার কথাই বলেননি, বরং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে পেট্রোল-ডিজেল অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’ তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। যেখানে সম্ভব করোনা আমলের মতো বাড়িতে বসে কাজের চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে।
একটি পরিবার গয়না কেনা স্থগিত রাখলে রুপির মানে কোনও প্রভাব পড়বে না, এটি সত্য। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা দেখছেন সামগ্রিক চাহিদাকে। ভারত প্রতি বছর কয়েকশ টন স্বর্ণ আমদানি করে। বিয়ের মৌসুমে এই চাহিদা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠান বা গয়না কেনার বিরোধী না হয়ে মোদির এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category