• বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপ সম্প্রচারে এখনও ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, এবার তারা কী করবেন?

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস: বিশ্বজুড়ে ফিফা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা চলছে। সমর্থকরা কোথায় কীভাবে খেলা দেখবেন তার বন্দোবস্তও করে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। কিন্তু অনিশ্চয়তা কাটেনি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের ফুটবলমোদিদের। ফিফার এই মেগা ইভেন্ট শুরুর আর তিন সপ্তাহ বাকি। কিন্তু এখনও সে দেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে কোনো চুক্তি হয়নি। যা নিয়ে ভারতীয় মানুষদের মাঝে হতাশা বাড়ছে।
ফিফার তথ্যমতে– ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সব ধরনের মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে ৭৪ কোটি ৫০ লাখের বেশি ভারতীয় দর্শক খেলা দেখেছেন। এই হিসাবে চীনের পরেই তাদের অবস্থান। এ ছাড়া টেলিভিশন দর্শকসংখ্যার দিক থেকেও ভারত শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ছিল। এমনকি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের চেয়েও এগিয়ে ছিল দেশটি, যেখানে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ মানুষ টিভিতে খেলা দেখেছিল।
৪৩ বছর বয়সী গোলরক্ষককে নিয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ দলের স্কোয়াড ঘোষণা
এর বাইরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ভারতীয় দর্শকের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। শুধু ফাইনাল ম্যাচেই রিলায়েন্সের জিওসিনেমায় প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ দর্শক খেলা দেখেন। পুরো টুর্নামেন্টে প্ল্যাটফর্মটিতে দেখা হয়েছিল ৪ হাজার কোটি মিনিটের কনটেন্ট। ২০২২ বিশ্বকাপে সম্প্রচার স্বত্বের জন্য রিলায়েন্সের জিও প্রায় ৬ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল। এর আগে সনি স্পোর্টস ২০১৪ ও ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ইউরো ২০১৬ সম্প্রচারস্বত্ব ২০১৩ সালে প্রায় ৯ কোটি ডলারে কিনেছিল।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির সময় ফিফা প্রায় ১০ কোটি ডলার মূল্য আশা করেছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরু হতে দুই সপ্তাহ বাকি এবং মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার ভারতে এখনও কোনো ক্রেতা পাচ্ছে না ফিফা। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপের ২৩তম আসর বসবে। বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচের সময়সূচিই ভারতীয় সম্প্রচারকারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আয়োজক শহরগুলোর সঙ্গে ভারতীয় সময়ের পার্থক্য ১০-১২ ঘণ্টা। ফলে বেশিরভাগ ম্যাচ হবে মধ্যরাতের আগে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এলারা ক্যাপিটালের নির্বাহী সহসভাপতি করণ তৌরানি আল জাজিরাকে বলছেন, ‘ভারতে টেলিভিশন এখন সংকটাপন্ন একটি মাধ্যম। এ ধরনের ক্রীড়া আসরে মূল আয় আসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে। এ কারণেই ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ভারতের ক্রীড়া অর্থনীতিতে ক্রিকেটই প্রধান নিয়ামক। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) যারা দেখে, তাদের অল্প অংশই ফিফা বিশ্বকাপ দেখবে। আর গভীর রাতে বসে খেলা দেখবে আরও কম মানুষ।’
করণ তৌরানির মতে, এসব কারণে সম্প্রচারকারী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের দর্শকসংখ্যা অনেক কমে যায়। এ ছাড়া, ভারতের সরকারের সাম্প্রতিক ফ্যান্টাসি রিয়েল-মানি বেটিং অ্যাপ নিষিদ্ধ করাও ক্রীড়া বিনোদন শিল্পে অর্থের প্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সম্প্রচার চুক্তি না হওয়া নিয়ে একটি রিট আবেদন শুনানি করছে হাইকোর্ট। আদালত দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল দূরদর্শনের কাছে জবাবও চেয়েছে। একজন আইনজীবী ও ফুটবলভক্ত তার আবেদনে বলেন, ‘এই আদালতের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া আবেদনকারী এবং লাখো ভারতীয় নাগরিক তাদের মৌলিক অধিকার থেকে অপূরণীয়ভাবে বঞ্চিত হবেন, যার কোনো কার্যকর বিকল্প প্রতিকার নেই।’
সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা ভারতে বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনা কমিয়ে দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোনো বেসরকারি সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না এলে সবার নজর থাকবে দূরদর্শনের দিকে, যারা সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল। অন্যদিকে, বেআইনিভাবে খেলা দেখার দিকে মনোযোগ ঝুঁকে যাওয়ার ইঙ্গিত লিওনেল মেসিভক্ত কলকাতার নাগরিক বিশ্বাস ব্যানার্জির কণ্ঠে, ‘বিশ্বকাপ দেখার নির্ভরযোগ্য কোনো উপায় না থাকায় আমি ভীষণ কষ্ট পাচ্ছি। তবুও আমরা পাইরেটেড স্ট্রিমে খেলা দেখব। এটা কেউ থামাতে পারবে না।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category