• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন
Headline
জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ কিছু বিষয়ের অপপ্রয়োগের শঙ্কা গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্টদের, বিবেচনার আশ্বাস সরকারের হ্যাকিং নিয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করলেন চিফ হুইপ পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষী ভাবেনি আওয়ামী লীগ পালিয়ে বিদায় নেবে: ধর্মমন্ত্রী রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে, সময় দিতে পারছি না: মন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন: মাহবুব উদ্দিন খোকন স্কুল ফিডিং শুধু পুষ্টি নয়, সুশাসনেরও পরীক্ষা: ববি হাজ্জাজ র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী চাইনি: শফিকুর রহমান স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই: শাহে আলম ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫১

Reporter Name / ৮৮ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবশেষ শনিবার দেশটির বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলের একাধিক জোরালো হামলায় মোট ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দু’জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মানদণ্ড লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল এবং তারা প্যারামেডিকদের বিরুদ্ধে আরও অপরাধ যুক্ত করছে। তারা বিন্ত জবেইল জেলার কালাউইয়া এবং তিবনিনের দু’টি স্থানে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েল সরকার ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে। দু’পক্ষের হয়ে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দু’পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিকবার অস্ত্র তুলে নিয়েছে। চলমান এই যুদ্ধবিরতি তৃতীয় সপ্তাহে পড়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন সামরিক অভিযানে দুই হাজার ৮৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ১৩০টিরও বেশি ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০৩ চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং আরও ২৩০ জন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননের টাইরে লেবানিজ সিভিল ডিফেন্সের প্রধান আলি সাফিউদ্দিন বলেন, “আমরা প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিদিনই হুমকির মধ্যে আছি। আমরা নিজেদের জিজ্ঞাসা করি, বাঁচবো নাকি মারা যাবো। আমরা জানি, এখানে কাজ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবন আগেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছি। আমরা অনেক মানুষকে হারিয়েছি। মনে হয় আমরাও যেন ইতিমধ্যেই হারিয়ে গেছি।”
আল-জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো টাইর বলেন, “লেবাননে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। সশস্ত্র সংঘাতে চিকিৎসাকর্মীরা প্রাণ হারাচ্ছেন। জরুরি ব্যবস্থার কর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে। কিন্তু এই ফ্রন্টলাইনে প্রশ্নটা আর এটা নয় যে পরবর্তী হামলা কখন হবে; বরং প্রশ্ন হলো—সাহায্যের জন্য আসা কলগুলোর জবাব দেওয়ার মতো কতজন মানুষ বেঁচে থাকবে।”
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও লেবাননে কাজ করা চিকিৎসক ডা. তাহির মোহাম্মদ বলেন, “আমি দুই জায়গাতেই ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের মধ্যে মিল দেখতে পায়। গাজায় আমার অনেক সহকর্মী, নার্স এবং মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। লেবাননে একইভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার এই নীতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এটা ধারাবাহিক।” তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল যদি তাদের মতো করে চলতে পারতো, তারা অবশ্যই লেবাননের পুরো দক্ষিণাঞ্চল দখল করে ফেলতো এবং সেটা তারা কালকেই করতো। তাদের জীবনের প্রতি কোনও আগ্রহ নেই। আমি নিজের চোখে তা দেখেছি।”
ইসরায়েলের অনবরত হামলার কারণে গত ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১২ লাখেরও বেশি লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলার সংখ্যা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category