• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন
Headline
পঞ্চগড়ে সোলার প্রকল্পে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ সরকারের সমালোচনা করুন, তবে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা নয় : আবদুস সালাম কম দামে গাড়ি দিতে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ চায় বারভিডা বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছি : শফিকুর রহমান যেকোনও মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী একের পর এক কারিগরি ত্রুটি, নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না ভাবতে হবে: রিজভী সরকারের ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ টন গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই লেপার্ডের এক দশকের বন্দি জীবন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার নবীনবরণে কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি ছাত্রদের

রাজধানীর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম চড়া

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: রাজধানীর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম এখনো চড়া। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও মুরগি ও মাছের দামও বেড়েছে। অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর পরও সরবরাহ-সংকট কাটেনি। ফলে বাড়তি দামের পাশাপাশি পণ্য না পাওয়ার ভোগান্তিও রয়েছে ক্রেতাদের।
শনিবার ঢাকার মুগদা, মানিকনগর, কমলাপুর, খিলগাঁও ও বাসাবো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফার্মের মুরগির ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। আগস্টের শুরুতে দাম বাড়ার পর থেকে ডিমের দাম আর আগের অবস্থায় ফেরেনি। এর আগে এক ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতো। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। আগে এ মুরগির দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।
বাজারে সোনালি মুরগির দাম আরও বেশি। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আগে সোনালি মুরগির দাম ছিল কেজি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক মাসের বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে। পরে অনেক খামারি নতুন করে মুরগি পালন শুরু করেননি। সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়েও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে দাম বাড়তি রয়েছে। আর মুরগি সংখ্যা কমায় ডিমের উৎপাদনও কমেছে।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, মুরগি ও ডিমের মূল্যবৃদ্ধি মূলত জোগান ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের অসংখ্য লেয়ার খামারি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যায় অনেক খামারির মুরগি ও ডিম ভেসে গেছে। যার ফলে বাজারে হঠাৎ করে জোগানের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়েছে। এদিকে মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া ও পাঙাশ-বেশির ভাগ মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। চাষের পাঙাশ আকারভেদে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের রুইয়ের দাম কেজি ৪০০ টাকা এবং কাতলা ৪২০ টাকা।
মাংসের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নেই। রাজধানীতে গরুর মাংস কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খাসির মাংসের দামও ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজির মধ্যে রয়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য মাছ-মাংস নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ভোজ্যতেলের বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ-সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। এতে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে ভোক্তাকে ১৯৯ টাকার পরিবর্তে ২০৪ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ দাম বাড়ানোর পরও রাজধানীর অনেক খুচরা দোকানে পর্যাপ্ত বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অর্ডার দেওয়ার পরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মানিকনগর পুকুরপাড়ের মুদি দোকানি রফিকুল ইসলাম বলেন, অর্ডার দেওয়ার পরও কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে তার দোকানে কোনো বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। ফলে বোতলজাত তেল কিনতে এসে অনেক ক্রেতাকেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্রেতা আবার বাধ্য হয়ে খোলা তেল নিয়ে বাসায় ফিরছেন।
সার্বিকভাবে বাজারে কিছু পণ্যে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও মাছ, মুরগি, ডিম ও তেলের বাড়তি দাম সামগ্রিক বাজার চিত্রে চাপ তৈরি করছে। এতে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনীয় পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের খাদ্য তালিকায় মাছ-মাংস-ডিমসহ দাম বেড়ে যাওয়া পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে পরিমাণ কমিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category