• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন
Headline
আলাদা ইসলামিক দেশ গঠনের আগ পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদিকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের সৌদির অধীনে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলো সৌদি আরব–হুতি সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি মস্কোতে ইউক্রেনের বিশাল ড্রোন হামলা ব্যাংকিংয়ে নৈতিকতা ফেরাতে রাষ্ট্র ও ধনিক গোষ্ঠীর যোগসূত্র ছিন্ন করতে হবে: মাহবুব উল্লাহ সরকারি চাকরিতে গাড়িসুবিধা ছাড়া সর্বোচ্চ বেতন হবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা উচ্চশিক্ষিত নারীদের মাত্র ৫ শতাংশ কাজ করেন প্রয়াত উদ্যোক্তা সৈয়দ মনজুর এলাহীর পৌনে ৩১ লাখ শেয়ার পেলেন ছেলে-মেয়ে তোপের মুখে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মালিক জিম র‌্যাটক্লিফ

সরকারি চাকরিতে গাড়িসুবিধা ছাড়া সর্বোচ্চ বেতন হবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা

Reporter Name / ৬ Time View
Update : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন বেতন দাঁড়াবে ভাতাসহ ৩৩ হাজার টাকার কিছু বেশি। গাড়িসুবিধা ছাড়া সর্বোচ্চ বেতন হবে ভাতাসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকা। নতুন বেতনকাঠামোর পুরো সুবিধা মিলবে আরও দেড় বছর পর থেকে। মূল বেতন তিন ধাপে দেওয়া হবে। আর বাড়িভাড়াসহ সব ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন বেতনকাঠামো জারি হয়েছে ১১ বছরের মাথায়। অবশ্য এ সময়ে প্রতিবছর ৫ শতাংশ করে বেতন বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন (নির্ধারিত) ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। এর বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য বিশেষ গ্রেড রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার এবং জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য তা ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ গত বৃহস্পতিবার ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করে। তবে তা প্রকাশিত হয় শনিবার। এতে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন অনলাইনে নির্ধারণ করতে হবে। এ জন্য সরকারের আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ (বেতন নির্ধারণ) অপশনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। বেতন নির্ধারণের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। অনলাইনে আবেদন করতে জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরির তথ্য এবং আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর প্রয়োজন হবে। কারও এনআইডি না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন করতে হবে।
নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন গ্রেড বা ধাপে মূল বেতন ২০ হাজার টাকার সঙ্গে সর্বনিম্ন হারে বাড়িভাড়া ভাতা যোগ হবে ৪৫ শতাংশ। আরও যোগ হবে ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা এবং মুঠোফোন ভাতা ১৫০ টাকা।
ফলে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে একজন সরকারি চাকরিজীবীর সর্বনিম্ন মোট বেতন দাঁড়াবে (২০তম গ্রেডে) ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার জন্য বাড়িভাড়া ভাতা ৬০ শতাংশ। এতে মোট বেতন দাঁড়াবে ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ঘোষিত মজুরিকাঠামো অনুযায়ী দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
বিশেষ গ্রেডে সর্বোচ্চ বেতন পাবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব। তাঁদের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ঢাকার জন্য ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা, ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ২ হাজার আপ্যায়ন ভাতা, ৫০০ টাকা মুঠোফোন ভাতা এবং ৩০০ ধোলাই ভাতাসহ মোট বেতন দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। এর বাইরে তাঁরা সার্বক্ষণিক গাড়ি সুবিধাসহ আরও কিছু সুবিধা পান।
নতুন বেতনকাঠামোয় এক নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এই গ্রেডে একজন কর্মকর্তা সোয়া দুই লাখ টাকার মতো বেতন পাবেন। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া তরুণদের ৯ম গ্রেডে মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। এই গ্রেডে সর্বনিম্ন মোট বেতন হবে ৬০ হাজার টাকার কিছু বেশি।
নতুন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও ওই দিন থেকেই সরকারি কর্মচারীরা পুরো বর্ধিত মূল বেতন পাবেন না। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮—এই দুই অর্থবছরে তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে। এর মধ্যে নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ প্রাপ্ত বেতনের সঙ্গে যোগ করে পাবেন। আর ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা পাবেন ৫০ শতাংশ। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দুই দফায় মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দেওয়ার জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের চেষ্টা ছিল সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে ১ জুলাই থেকে হিসাব করে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা। শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়া দেওয়া হবে।
পদোন্নতি না পেয়ে একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ করলে এবং চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হলে নবম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপরও পদোন্নতি না হলে নির্ধারিত সময় পূর্ণ করার পর আরও একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে একই পদের বিপরীতে একাধিক উচ্চতর গ্রেড নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমা ও শর্ত রয়েছে। পদোন্নতির সুযোগ নেই—এমন ব্লকড পদের কর্মচারীরাও উচ্চতর গ্রেড পাবেন।
সব সরকারি কর্মচারীর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের তারিখ হবে অর্থবছরের প্রথম দিন। একটি ইনক্রিমেন্ট গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার ছয় মাস পূর্ণ না হলে ইনক্রিমেন্ট পাওয়া যাবে না।
অবসর নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনও বাড়ানো হয়েছে। পাঁচটি স্তরে এই বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার বেশি। মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ফলে ৯ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তি পাবেন ১৮ হাজার টাকা। ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ বা তার বেশি নিট পেনশনে ৫৫ শতাংশ বাড়বে। তবে বর্তমানে ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাবেন।
নতুন বেতন আদেশে কর্মস্থল ও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এসব নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এর আগে প্রচলিত হারেই বাড়িভাড়া দেওয়া হবে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ বাড়িভাড়া পাবেন। ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং প্রথম থেকে চতুর্থ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে ১১টি সিটি করপোরেশন, সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেডে ৪০ শতাংশ, ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৩৫ শতাংশ এবং প্রথম থেকে চতুর্থ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৩০ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়া হবে।
অন্যান্য এলাকায় ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ, ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেডে ৩৫ শতাংশ, ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৩০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে চতুর্থ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ২৫ শতাংশ বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৫ হাজার ৬০০ টাকা বাড়িভাড়া দেওয়া হয়। ৯ হাজার ৭০১ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ, তবে ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা; ১৬ হাজার ১ থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ, তবে ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেশি মূল বেতনে ৫০ শতাংশ, তবে ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া দেওয়া হয়।
ভাতার জন্য আরও ১৫ মাস
নতুন কাঠামোর অধিকাংশ নতুন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা মাসে ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। ৫০ বছর ১ দিন বয়স থেকে অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত এই ভাতা হবে ৪ হাজার টাকা।
পেনশনভোগীদের জন্য ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে একজন সরকারি কর্মচারী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য সন্তানপ্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বাংলা নববর্ষ ভাতা হবে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ। এতদিন ছিল ২০ শতাংশ।
চাকরিরত ও পেনশনভোগী—উভয়ের জন্য বছরে দুটি উৎসব ভাতা থাকবে। ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা শিক্ষাসহায়ক ভাতা দেওয়া হবে, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন।
সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা, পঞ্চম গ্রেড ও তার ওপরে মোবাইল ভাতা ৫০০ টাকা এবং তার নিচে ১৫০ টাকা করে দেওয়া হবে।
আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মাসে ২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিব ও সচিব ১ হাজার, অতিরিক্ত সচিব ৯০০ এবং যুগ্ম সচিব ও সমমর্যাদার কর্মচারীরা ৬০০ টাকা পাবেন।
পার্বত্য জেলায় কর্মরত কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ পাহাড়ি ভাতা পাবেন। জেলা সদর ও সদর উপজেলায় এ ভাতা হবে সর্বোচ্চ ৫ হাজার এবং অন্যান্য উপজেলায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা। হাওর, দ্বীপ ও চর এলাকায় বিশেষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ, তবে ৫ হাজার টাকার বেশি নয়। সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে থাকা নবম গ্রেড ও তার ওপরের কর্মকর্তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ প্রশিক্ষণ ভাতা পাবেন।
এ ছাড়া বিশেষায়িত হাসপাতাল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কারাগার, ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীদের ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অর্থায়নই বড় চিন্তা।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থায়ন কীভাবে হবে, আমি সেটা নিয়ে ভাবছি। দেড়-দুই বছরে কি রাজস্ব আয় এত বাড়বে? ধরে নিলাম বাড়লই। এ টাকা তো সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতেই ব্যয় হয়ে যাবে। অন্য কাজেও যে অর্থ ব্যয় করতে হবে, তার কী হবে?’ তিনি বলেন, একটা উপায় হতে পারে ঋণ নেওয়া। আরেকটা উপায় হতে পারে ব্যয় সাশ্রয় করা। এখানে বাজেট–ঘাটতি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঘাটতি মেটাতে সরকার যদি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, তাহলে টাকা ছাপাতে হবে। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। দেখতে হবে যে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকার কোন পথ বেছে নেয়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category