প্রভাত ডেস্ক: মালয় ভাষী অঞ্চলটি মুসলিম অধ্যুষিত। এখানে মুসলিমরা আলাদা স্বাধীন ইসলামিক দেশ গঠন করতে চায়। থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলের আলাদা স্বাধীন ইসলামিক দেশ না গড়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)’। দুদিন আগে বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন দলটির প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকামাতুল্লাহ সেরি। “যতদিন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হচ্ছে, আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চলবে।”— বলেন নিকামাতুল্লাহ।
১৯৬০ সাল থেকে থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে ইসলামিক দেশ গঠনের জন্য লড়ে যাচ্ছে বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের যোদ্ধারা। মাঝে এটি থেমে গেলেও ২০০৪ সাল থেকে তারা নতুন করে আবারও লড়াই শুরু করেন।
তাদের থামাতে ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা থমকে গেছে। বিশেষ করে গত জুলাইয়ে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে ব্যাংকক সরকার। ওই সময় মুসলিম অঞ্চলটিতে পাঁচ থাই নাগরিক নিহত হন। এতে করে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুরের একটি হোটেলে বসে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে নিকামাতুল্লাহ আরও বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য একই রয়ে গেছে। সেটি হলো স্বাধীনতার দাবি।”
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে আগে মালয়-মুসলিম পাতানি সুলতানাতের শাসন ছিল। তবে ১৯০০ সালের শুরুর দিকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ড এ অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করে। ওই সময় থাইল্যান্ডের নাম ছিল সিয়াম।
২০০৪ সাল থেকে এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে স্থানীয় যোদ্ধা, দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক মানুষ রয়েছেন। সম্প্রতি সেখানে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে নিকামাতুল্লাহ এর পেছনে তার দলের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেননি আবার প্রত্যাখ্যানও করেননি।
নিকামাতুল্লাহ বলেছেন, তারা দক্ষিণাঞ্চলে আলাদা স্বাধীন দেশ করে সেখানকার রাজনৈতিক ক্ষমতা চান। এরপর সেখানে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে। যা শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এরপর ১০ বছর পর গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নিকামাতুল্লাহ বলেন, “আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতা চাই। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে (মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ) সরকার চালাতে দেওয়া উচিত। এটি শরিয়াহ পুলিশ ও আদালত দিয়ে চলবে। তবে শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।”
সূত্র: এএফপি