• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
Headline
জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ কিছু বিষয়ের অপপ্রয়োগের শঙ্কা গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্টদের, বিবেচনার আশ্বাস সরকারের হ্যাকিং নিয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করলেন চিফ হুইপ পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষী ভাবেনি আওয়ামী লীগ পালিয়ে বিদায় নেবে: ধর্মমন্ত্রী রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে, সময় দিতে পারছি না: মন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন: মাহবুব উদ্দিন খোকন স্কুল ফিডিং শুধু পুষ্টি নয়, সুশাসনেরও পরীক্ষা: ববি হাজ্জাজ র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী চাইনি: শফিকুর রহমান স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই: শাহে আলম ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৩ ফুট দীর্ঘ একটি বিরল ‘ওরফিশ’ ভেসে আসার ৬ দিন পর ৬ আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত কেন?

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার একটি সৈকতে গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভেসে আসে ১৩ ফুট দীর্ঘ একটি বিরল ‘ওরফিশ’ যা লোকমুখে ‘কেয়ামতের মাছ’বা ‘প্রলয়ংকরী মাছ’ বা ‘ডুমসডে ফিশ’ নামে পরিচিত। এই মাছের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে বিপর্যয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়, কারণ ঠিক ছয় দিন পর ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় একই সঙ্গে ছয়টি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে এবং এর পরদিনই ৪,৬০০ কিলোমিটার দূরে নেপালে ঘটে যায় এক ভয়াবহ বন্যা।
সংবাদমাধ্যম ডেটিকবালিকে সেকারোহ গ্রামের তেলোন হ্যামলেটের প্রধান সাহলান জানান, কমোডো দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের ‘পিঙ্ক বিচ’-এ মাছটি ভেসে আসে। রাতে সেখানে ক্যাম্পিং করা এক পর্যটক সকালে এটি প্রথম দেখতে পান। বিরল এই গভীর সমুদ্রের প্রাণীকে দেখে সৈকতে থাকা দর্শনার্থীরা স্তম্ভিত হয়ে যান। পরে একদল শিশু এবং এক বয়স্ক ব্যক্তি মিলে ১৩ ফুট দীর্ঘ মাছটিকে সৈকত থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
সাহলান জানান, মাছটি ভেসে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও সে সময় ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত ছিল। তবে এর ঠিক ছয় দিন পর, ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার ‘সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলোজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন’ (পিভিএমবিজি) জানায়, দেশে অন্তত ছয়টি আগ্নেয়গিরিতে প্রায় একই সময়ে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়।
অগ্ন্যুৎপাত হওয়া আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর সুমাত্রার মাউন্ট সিনাবুং এবং মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউ, যার ছাই জাভা ও সুমাত্রার ওপর প্রায় ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে উঠে যায়। এছাড়া উত্তর মালুকুর মাউন্ট ইবু, পূর্ব নুসা তেনগারার মাউন্ট লেউওতোবি পেরেমপুয়ান ও ইলি লেউওতোলোক এবং পূর্ব জাভার মাউন্ট সেমেরু এতে আক্রান্ত হয়। তবে পিভিএমবিজি প্রধান সিতি সুমিলা রিতা সুসিলাওয়াতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ছয়টি অগ্ন্যুৎপাতের মধ্যে কোনও পারস্পরিক সংযোগ নেই।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় মাছটি দেখার পরদিনই, অর্থাৎ ২৬ আগস্ট প্রায় ৪,৬০০ কিলোমিটার দূরে নেপালে এক বিধ্বংসী দুর্ঘটনা ঘটে। হিমবাহের হ্রদ ফেটে আকস্মিক বন্যায় পুরো গ্রাম ভেসে যায় এবং ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
প্রকৃতির অতি গভীরে বাস করা ওরফিশ খুব কমই সমুদ্রের উপরিভাগে আসে। জাপানি লোকগাথা অনুসারে, এই মাছের দর্শন পাওয়াকে অশুভ সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপানি ভাষায় একে বলা হয় ‘রিউগু নো সুকাই’, যার অর্থ ‘সমুদ্র দেবতার প্রাসাদের বার্তা বাহক’। বিশ্বাস করা হয়, কোনও বিপর্যয় ঘটার আগে মানবজাতিকে সতর্ক করতেই এরা ওপরে ভেসে ওঠে।
এক জাপানি উপকথা অনুযায়ী, ১৮১৯ সালের এপ্রিলে সুশিমা উপকূলে ৩০ ফুটের একটি ওরফিশ দেখা গিয়েছিল। সে সময় প্রায় ৮০০ মানুষ নৌকায় করে একত্রিত হয়ে সেটির দিকে ৩০টি বন্দুক দিয়ে গুলি চালালেও মাছটি নড়েনি। সাত দিন পর সেটি বলে ওঠে, ‘আমাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি ড্রাগন প্যালেস থেকে বিশেষ কারণে এসেছি। চলতি বছরেই এক মহামারি আসবে এবং অনেক মানুষ মারা যাবে’। যদিও স্থানীয়রা ভূমিকম্প, সুনামির কিংবা বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে এই মাছের উপস্থিতিকে যুক্ত করেন, বিজ্ঞানীরা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে ওরফিশ দেখার সঙ্গে কোনও ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বৈজ্ঞানিক কোনও সম্পর্ক নেই।

সূত্র: উইয়ন নিউজ


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category