• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
Headline
ঢাকায় ফুটবল খেলে নিরাপদ ভারত এনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ রাতেও মিলবে সূর্যের আলো, মহাকাশে বসবে ৫০ হাজার আয়না পিরোজপুরে চেরাগ গ্রন্থাগারের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের অনুষ্ঠানে চীনা শিক্ষার্থীদের ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স পরিবেশনা রফতানি ব্যাহত, কারখানায় আগুন: ক্ষতির মুখে পোশাকশিল্প শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঢামেক হাসপাতালে দুদক চেয়ারম্যানের আকস্মিক পরিদর্শন, রোগীদের নানা অভিযোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার-শিক্ষার্থী সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: রুহুল কবির রিজভী গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে জামায়াতের মিছিল

২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস জমা দিচ্ছে না কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডস

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : ২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস ঘিরে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এবার পুরস্কারের জন্য গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডস। এর আগে একই সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল আরেক কে-পপ জায়ান্ট বিটিএস। এ নিয়ে গ্র্যামিতে এশীয় পপসংগীতের জন্য নতুন বিভাগ চালুর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা আরও স্পষ্ট হলো। গ্র্যামির আয়োজক রেকর্ডিং একাডেমি গত জুনে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ’ নামে নতুন একটি বিভাগ চালুর ঘোষণা দেয়। এশিয়ার বাজারে তৈরি বা এশীয় সংগীতের সঙ্গে সম্পর্কিত পপসংগীতে শৈল্পিক উৎকর্ষকে স্বীকৃতি দেওয়াই এই বিভাগের উদ্দেশ্য। তবে ঘোষণার পর থেকেই সংগীতশিল্পীদের একাংশ এর সমালোচনা করছেন।
সমালোচকদের আশঙ্কা, আলাদা বিভাগ চালু হলে কে-পপ, জে-পপসহ এশিয়ার বিভিন্ন ধারার সংগীত মূলধারার গ্র্যামি বিভাগ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার বা সং অব দ্য ইয়ারের মতো প্রধান বিভাগে এশীয় শিল্পীদের স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই স্ট্রে কিডসের রেকর্ড লেবেল জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট সংক্ষেপে জানিয়েছে, ‘স্ট্রে কিডস গ্র্যামির জন্য কোনো গান জমা দেয়নি।
এর আগে জুলাইয়ে বিটিএসও জানায়, তারা কোনো বিভাগেই নিজেদের গান বিবেচনার জন্য জমা দেবে না। ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তারা চায় তাদের সংগীতকে অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে ভাগ না করে তার নিজস্ব পরিচয়ে শোনা ও ভালোবাসা হোক।
স্ট্রে কিডস এত দিন অবশ্য গ্র্যামি নিয়ে সরাসরি কোনো অবস্থান জানায়নি। আগস্টে নতুন অ্যালবাম ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’-এর প্রচার উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সদস্য হোয়াং হিয়ন-জিন বলেছিলেন, পুরস্কার বা রেকর্ড কখনোই তাঁদের লক্ষ্য ছিল না। তাঁদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ভক্তরা যেন খুশি ও সন্তুষ্ট থাকেন।
স্ট্রে কিডসের এই সিদ্ধান্ত রেকর্ডিং একাডেমির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যান্ডটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কের গভর্নরস বল উৎসবে লর্ড ও এএসপি রকির সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করেছে তারা। এর আগে রিও ডি জেনিরোর রক ইন রিও উৎসবেও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পারফর্ম করেছে ব্যান্ডটি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবাম চার্টেও স্ট্রে কিডসের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ব্যান্ডটির সর্বশেষ অ্যালবামসহ মোট ৯টি অ্যালবাম যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবাম চার্টে এক নম্বরে উঠেছে। তাদের চেয়ে বেশি এক নম্বর অ্যালবাম রয়েছে কেবল দ্য বিটলসের।
চলতি বছর গ্র্যামির ভোটার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন স্ট্রে কিডসের আট সদস্যই। ফলে পুরস্কারের জন্য গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিটিএসের সদস্যরাও রেকর্ডিং একাডেমির ভোটার। তবে স্ট্রে কিডস ও বিটিএসের সিদ্ধান্তের পরও নতুন বিভাগটি বাতিল করছে না রেকর্ডিং একাডেমি। গ্র্যামির প্রধান হার্ভে ম্যাসন জুনিয়র সম্প্রতি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের অনুষ্ঠানে এশিয়ান পপ বিভাগ থাকছে।
ম্যাসন জুনিয়র বলেন, এ বিষয়ে এশিয়ার সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় করেছে একাডেমি। কেউ কেউ বিভাগটি না রাখার পক্ষে মত দিলেও অনেক সংগীতশিল্পী নতুন বিভাগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত সবাইকে সন্তুষ্ট করবে না। তবে এশিয়ার সংগীতকে যথাযথভাবে সম্মান জানানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে একাডেমি।
নতুন বিভাগ নিয়ে আপত্তির আরেকটি জায়গা হলো ভাষা। মনোনীত গানে এশীয় কোনো ভাষার ‘অর্থবহ ব্যবহার’ থাকার শর্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে পরিচিত দুই কোরিয়ান শিল্পী—বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংক—তাদের সাম্প্রতিক ইংরেজিনির্ভর গান দিয়ে এই বিভাগে যোগ্য হবে না।
এশীয় সংগীতের জন্য আলাদা বিভাগ চালুর পক্ষে যুক্তি হলো, বিশ্বজুড়ে এশীয় পপের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। রেকর্ডিং একাডেমির মতে, নতুন বিভাগটি সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন। অন্যদিকে বিরোধীদের যুক্তি, আলাদা বিভাগ তৈরি করে এশীয় সংগীতকে মূলধারার পুরস্কার থেকে আলাদা করে ফেলা হচ্ছে।
এ ধরনের বিতর্ক অবশ্য গ্র্যামিতে নতুন নয়। লাতিন সংগীতশিল্পীদের মধ্যেও ‘বেস্ট মিউজিকা উরবানা’র মতো নির্দিষ্ট বিভাগের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে—আলাদা স্বীকৃতি কি প্রতিনিধিত্ব বাড়ায়, নাকি মূলধারা থেকে দূরত্ব তৈরি করে? এরই মধ্যে বিটিএস ও স্ট্রে কিডসের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আরেক জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড এটিজের নেতা কিম হং-জুং। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিটিএসের অবস্থান তাঁকে ভাবিয়েছে এবং তিনি নিজেও বিষয়টি নিয়ে একইভাবে ভাবতে পারেন।
২০২৭ সালের গ্র্যামির মনোনয়ন ঘোষণা হবে ১০ ডিসেম্বর। তখনই জানা যাবে, আর কোন কোন এশীয় ও কে-পপ শিল্পী পুরস্কারের জন্য নিজেদের গান জমা দিয়েছেন।

বিবিসি অবলম্বনে


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category