প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের পর বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া শুরু হলে মাত্র আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীর বেশ কয়েকটি সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।
বিশেষ করে মিরপুর-১০, মিরপুর-১৩, কালশী ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। দুর্ভোগে পড়েন রিকশাচালক, মোটরসাইকেল আরোহী, সিএনজিচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন সড়কসংলগ্ন দোকানপাট ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।
মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ওবায়দুল বলেন, ‘আমার বাসা মিরপুর-৬ নম্বরে, আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিরপুর-১০ নম্বরে। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা যেন নদীতে পরিণত হয়। এতে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মিরপুর-১০ এলাকায় সিটি করপোরেশনের অফিস থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, কালশী-মিরপুর এলাকার পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করা হোক। না হলে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী সবারই প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’
সিএনজিচালক মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ভাই, আমাদের দুঃখের কথা শোনার যেন কেউ নেই। একটু বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে গাড়ি চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। রাস্তায় পানি জমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। আবার যাত্রীরা মাঝপথে নেমে যান, ফলে ভাড়াও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। আমরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে মিরপুর-১০ ও কালশী এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং চালকদের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়।’
পথচারী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বাসা মিরপুর-১১ নম্বরে। মিরপুর-১ নম্বরে একটি ছোট ব্যবসা করি। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই মিরপুর-১০ থেকে সার্ভিস রোডের শেষ মাথা পর্যন্ত পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়। তখন রিকশা যেতে চায় না, আর গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে। অনেক সময় ২০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দুর্ভোগের শেষ কবে হবে? সরকারের কাছে আমাদের দাবি, মিরপুর-১০ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের একটি কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হোক।’
নগরবাসীর প্রত্যাশা, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে সামান্য বৃষ্টিতেই জনদুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।