• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
Headline
কেউ যেন নিজের গুরুত্ব বাড়াতে আমাকে টানাহেঁচড়া না করে: লাইলী বেগম বগুড়ার সেই দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাদীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ পাথরঘাটা থানার ওসির বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন : দেশজুড়ে পুলিশের সতর্কতা খামারবাড়িতে ফল মেলায় নানা জাতের আমে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি ‘কাঁচা রাস্তা’ তো সঠিক, ডার্ট রোড বললে কি বুঝতেন: এমপি জেবা আমিন নিরাপদ খাদ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে যাচ্ছে “সাশ্রয় শপ’’ নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ রাজধানীর ২ সিগন্যালে এআই ক্যামেরা বন্ধ থাকার খবর, যা বলছে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ পুরো লেবানন পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে: ইসরায়েলি মন্ত্রী

কেউ যেন নিজের গুরুত্ব বাড়াতে আমাকে টানাহেঁচড়া না করে: লাইলী বেগম

Reporter Name / ৭ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, ফরিদপুর: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পাওয়ার (ভাইরাল) পর থেকে বিভিন্ন মহলের টানাহেঁচড়ায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানালেন ফরিদপুরের ভবঘুরে মাটির শিল্পী লাইলী বেগম। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ হয়েই থাকতে চান এবং গান গেয়ে মানুষের ভালোবাসা পেয়ে যেতে চান।
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে এ কথা বলেন লাইলী বেগম। তিনি বলেন, ‘গান গাওয়া আর মানুষের পাশে থেকে তাদের ভালোবাসা পাওয়াই আমার মনের আশা। আমি যে একবারে লাফ দিয়ে স্বর্গে যাব, তা না, ওইডা আমার ইচ্ছাও না। আমি অতি সাধারণ মানুষের একজন হয়েই শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে চাই।’
এবারের নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে ফরিদপুরে এক অনুষ্ঠানে দরাজ ও আবেগঘন কণ্ঠে ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল’ গান গেয়ে রাতারাতি ব্যাপক পরিচিতি পেয়ে যান লাইলী বেগম। এরই পথ ধরে গত বুধবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে ডেকে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে লাইলী বেগমের হাতে তিন লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ওই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর অনুরোধে লাইলী বেগম গান গেয়ে শোনান।
এ ছাড়া লাইলী বেগমকে এরই মধ্যে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহল থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অনুদান পাওয়ার পর আজ ফরিদপুর প্রেসক্লাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ছুটে আসেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় লাইলী বেগম জানান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা না পেলে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারতেন না। সংগীতজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গান আমার সাধনা। ছোটবেলা থেকেই গান গেয়ে আসছি। মানুষের ভালোবাসা ও আপনাদের সহযোগিতার কারণেই আজ আমি স্বীকৃতি পেয়েছি।’
ভবিষ্যতে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে লাইলী বেগম বলেন, ভবিষ্যতেও মানুষের জন্য গান গেয়ে যেতে চান এবং চলচ্চিত্রেও গান গাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি যেন সুস্থ ও সুন্দর এবং মানুষের কাছে সব সময় শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে থাকতে পারি।’
তবে ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন মহলের টানাহেঁচড়ায় কিছুটা বিরক্ত ও ক্লান্ত লাইলী বেগম। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে নিয়ে এই যে যা হচ্ছে, টানাহেঁচড়া, আমার একটু রেস্ট দরকার। কেউ যেন নিজের গুরুত্ব বাড়াতে আমাকে টানাহেঁচড়া না করে। মানে, কেউ ব্যবসার জন্য টানল, কিছু পাওয়ার জন্য, কারও নাম বাড়ানোর জন্য, আমাকে যেন না টানে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কথা বলতে বলতে অসুস্থ হইয়া যাইতেছি। আমি তো একটা মানুষ, মেশিন না। সুইচ দিয়া ছাইড়া দিলেই সে চলতে থাকবে। কয়েক দিন ধইরা আমার ওপর দিয়া অনেক ধকল গেছে, আমি দুর্বল হইয়া গেছি।’
তবে গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি লাইলী বেগম। তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার জন্য অনেক কিছু করতেছ, আমি তোমাদের জন্যই সবকিছু পাইতেছি, মিডিয়ার জন্য কিছু পাইতেছি। এ জন্য আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’
এ সময় লাইলী বেগমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছেলে আপন শেখ। তিনি বলেন, ‘আমার মা পৃথিবীর সেরা মা। সারা বিশ্বের মানুষ আজ তাঁকে চিনছে। এটি আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়।’ তিনি জানান, তাঁদের পরিবারে দুই ভাই ও দুই বোন রয়েছেন এবং লাইলী বেগম তাঁদের স্নেহ–মমতা ও ত্যাগের মাধ্যমে বড় করে তুলেছেন। পেশায় রংমিস্ত্রি আপন শেখ বলেন, তাঁর মায়ের এই অর্জন শুধু পরিবারের নয়, ফরিদপুরবাসীরও গর্ব।
আজন্ম ভবঘুরে সহজাত শিল্পী লাইলী বেগম ফরিদপুরের অলিগলিতে পদচারণের পাশাপাশি এই শহরের ধুলাবালুতেই বেড়ে উঠেছেন। শহরতলির হারুকান্দি এলাকায় তাঁর ছোট্ট একটা ঠিকানা থাকলেও সে বাড়িতে বসবাস করেন না তিনি। যেখানে রাত, সেখানেই কাত—এভাবেই চলে যায় তাঁর দিন–রাত্রি।
লাইলী বেগম জানান, ছোটবেলা মায়ের হাত ধরেই গান শেখা হয় তাঁর। সে সময় একটি হারমোনিয়ামও কিনে দিয়েছিলেন তাঁর মা। খুব অল্প বয়সেই বিয়ে হয় তাঁর। বিয়ের পরও গান গেয়ে যান, তবে কিছুটা বাধাও ছিল তাঁর স্বামীর। স্বামী তাঁর মতামত না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে যান বিদ্রোহী লাইলী। সেই থেকেই তিনি সংসার বিরাগীর পথ বেছে নেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category