• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
Headline
বাইউস্টে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তঃবিভাগ ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ কসমেটিকস বিক্রি করায় জরিমানা গাইবান্ধায় ধানের কম হওয়ায় কৃষকরা বিপাকে মারা গেছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কয়েক সেকেন্ডে থেমে গেল রোনালদোর লিগ জয়ের উৎসব ব্রাজিলের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা ১৮ মে, নেইমারকে নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা রিয়াল মাদ্রিদকে ধ্বংস করতে চায় একটি চক্র: ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ইউরোপের ফুটবল মৌসুম এখন শেষের পথে, ৮ জনের মধ্যে ৬ স্পেনের কোচ বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন দুই বছরের চুক্তিতে কোচ হ্যান্সি ফ্লিক কাতারের সেবাস্তিয়ান সোরিয়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়

গাইবান্ধায় ধানের কম হওয়ায় কৃষকরা বিপাকে

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

মো.নজরুল ইসলাম,গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। মাঠভরা সোনালি ধান থাকলেও কম দামে ধান বিক্রি, শ্রমিক সংকট, সার-বীজ ও কীটনাশকের উচ্চমূল্য এবং টানা বৃষ্টিতে ধান শুকাতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে উঠেছেন তারা।
গাইবান্ধা জেলার সদর, সাদুল্ল্যাপুর, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার খোঁজ নিয়ে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায়। অথচ ধান উৎপাদনে সার, বীজ, ডিজেল, সেচ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ।
সাদুল্ল্যাপুর,সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বড়হাট, ধাপেরহাট, নলডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর, কামারজানি, বামনডাঙ্গা, দড়িয়াপুর এবং পলাশবাড়ীর বিভিন্ন হাটে দেখা গেছে, কৃষকরা ধান কেটে শুকানোর সুযোগ না পেয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক কৃষকের ধান ভিজে গেছে। ফলে লোকসান এড়াতে তারা কাটা ধান দ্রুত বাজারে তুলছেন। আর এতে বাজারের ধানের দাম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ,গাইবান্ধা জেলার কৃষকেরা ।
ধাপেরহাট এলাকার কৃষক এবরার হোসেন বলেন, ধান চাষ করে এখন আর লাভ হয় না। ডিজেল, সার আর কীটনাশকের দাম এত বেশি যে উৎপাদন খরচই ওঠে না। এক মণ ধান ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আবার ভুট্টার দামও প্রায় একই।
তাই এখন অনেক কৃষক ধানের বদলে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
কৃষকেরা জানান, ধান কাটার শ্রমিকের মজুরিও এবার অনেক বেশি। অনেক এলাকায় একজন শ্রমিককে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। আবার চুক্তিতে ধান কাটলে খরচ আরও বেশি পড়ে। ফলে এক মণ ধানের বাজারমূল্য দিয়েও কখনো কখনো একজন শ্রমিকের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না।
পলাশবাড়ীর কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আলুর দামও এ বছর ভালো পাইনি। এখন ধানের দামও কম। ঋণ করে চাষ করেছি, কিন্তু সেই টাকা কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকার ঘোষিত ক্রয়মূল্যে এখনও কার্যকরভাবে ধান সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীরাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। মিল মালিক ও পাইকাররা কম দামে ধান কিনে নিচ্ছেন, অথচ কৃষক তার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা গেলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কৃষক কিছুটা স্বস্তি পাবেন। অন্যথায় লোকসান ও ঋণের বোঝা আরও বাড়বে।
এদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় বোরো ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কৃষকদের একটাই দাবি সরকারের কাছে তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক। না হলে আগামীতে ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন অনেক কৃষক।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category