• বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন
Headline
গাইবান্ধা শহররক্ষা বাঁধের ২৫টি স্থানে ধস মঠবাড়িয়ায় ভাড়া বাসা থেকে রাজমিস্ত্রির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বিমানবন্দরে গিয়ে নারী জানতে পারেন, তাঁর ভিসায় আরেকজন ইতালি চলে গেছেন আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌ-প্রধানের সাক্ষাৎ প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিটসহ বিশেষ সুবিধা যুক্ত করা হবে : বিমান মন্ত্রী শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে নয়, সঠিক ব্যবহার শেখাতে হবে: ববি হাজ্জাজ মধ্যস্থতায় মামলা ৬২% কমেছে, এক বছরে বিচার বিভাগে আশার আলো দেখা যাবে : আইনমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের কাজে অসন্তুষ্ট হলে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনতে পারেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

গাইবান্ধা শহররক্ষা বাঁধের ২৫টি স্থানে ধস

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

মো. নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা: কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বৃষ্টিতে গাইবান্ধা শহররক্ষা বাঁধের অন্তত ২৫টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত, যা বাঁধটির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধের ওপর দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় জেলা শহর রক্ষার প্রধান এই বাঁধ ঘিরে বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা জানান, ঘাঘট নদীর ভাঙন ও বন্যা থেকে জেলা শহরকে রক্ষার জন্য বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি জেলা শহরবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্ষার আগে শুকনা মৌসুমে বাঁধটি মেরামত করা উচিত ছিল। তখন বাঁধটি মজবুত ও টেকসই হতো। বর্ষার সময় কাজ করলে তা স্থায়ী হয় না।
অন্যদিকে, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে বাঁধের বিভিন্ন স্থানের মাটি ধসে গেছে। জরুরিভাবে সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বন্যা ও ভাঙন থেকে গাইবান্ধা জেলা শহরকে রক্ষা করতে ঘাঘট নদীর ডান তীরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গাইবান্ধা সদর উপজেলার ভেরামারা থেকে গোরহাট পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিমে বাঁধটি নির্মিত হয়। বাঁধটি চলাচলের রাস্তা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বাঁধটি টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়নি। উত্তর পাশে নদীর দিকে অনেক জায়গায় সিসি ব্লক দেওয়া হলেও দক্ষিণে (যেদিকে জেলা শহর) টেকসই কোনো কাজ নেই। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই ধসে যায়।
সরেজমিনে বাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, শহরের কুটিপাড়া, ডেভিড কোম্পানিপাড়া ও জুম্মাপাড়া এলাকায় বাঁধের বেহালদশা। ভারী বৃষ্টির কারণে বাঁধের মাটি সরে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে ওপরে ফেলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের ওপর দিয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বাঁধের বড় অংশই বালুমিশ্রিত মাটি দিয়ে নির্মিত। ফলে বৃষ্টির পানি নিচে নেমে যাওয়ার সময় বাঁধে ধীরে ধীরে বড় ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। ডেভিড কোম্পানিপাড়ার বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, “বৃষ্টি হলেই বাঁধের মাটি সরে যায়। বাঁধটি ধীরে ধীরে ধসে যাচ্ছে। একটানা ভারী বৃষ্টি হলে কী হবে, সেটাই চিন্তার বিষয়।”
কুটিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, “বৃষ্টিতে মাটি সরে যাওয়ায় বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাঁধের কাঁচা রাস্তা দিয়ে ট্রলি চলাচল করায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়েও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
একই এলাকার চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি ক্ষয়ে গেছে। কখনো স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়নি। বাঁধটির অনেক জায়গা নিচু ও সরু হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় সাইকেল-মোটরসাইকেল ছাড়া ভ্যান চলাচল করতে পারে না। সময়মতো সংস্কার না করায় অনেক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু বর্ষা এলে লোক দেখানোভাবে কিছু মাটি ও বালুর বস্তা ফেলা হয়।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে বাঁধ ধসে যাচ্ছে। কিন্তু পাউবো ধসে যাওয়া স্থানগুলো মেরামতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এদিকে ১৪ জুলাই দুপুরে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ক্ষতিগ্রস্ত শহররক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন। তাঁর নির্দেশে পরদিন থেকে শুধুমাত্র শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়া এলাকায় বাঁধের ধসে যাওয়া অংশে কিছু বালুর বস্তা ফেলা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, “বাঁধটি জরুরিভিত্তিতে মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাঁধের বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।”
গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “ভারী বৃষ্টির কারণে বাঁধের কিছু অংশে রেইনকাট ও ধস দেখা দিয়েছে। তবে চিন্তার কারণ নেই। বড় ধরনের ক্ষতি যেন না হয়, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মাটির বস্তা ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয়-সাতটি স্থানে বস্তা ফেলে ভরাট করা হয়েছে। মেরামতকাজ চলমান রয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category