• বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকছে না, বললেন শিশির মনির ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা হলো চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের সর্বনিম্ন খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কাজ করছে সরকার জেনার সাথে জড়িত প্রমাণ হলে এমপির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক : হারুনুর রশিদ এমপি গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করল জামায়াত ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার ক্রেতারা সংকট তৈরির চেষ্টা থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব: জ্বালানি বিভাগ যুদ্ধ-বন্যার চাপ সংসারে, দুশ্চিন্তা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, অনেক স্টেশন বন্ধ

জমে উঠেছে ফ্রিজের বাজার, বিক্রিও বেড়েছে

Reporter Name / ৫৩ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: বাংলাদেশে ফ্রিজ বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য না পেলেও ফ্রিজ উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, দেশে ফ্রিজের বাজারের আকার অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা। দেশের বাজারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়। এর মধ্যে কোরবানির ঈদে বিক্রি হয় ৯ থেকে ১০ লাখ ইউনিট। ফলে কোরবানির ঈদই ফ্রিজ বিক্রির সবচেয়ে বড় মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে যে পরিমাণ ফ্রিজ বিক্রি হয়, তার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশই বিক্রি হয় কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে। আর দুই ঈদে বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ, যার বড় অংশই হয় কোরবানির ঈদে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির মাংস সংরক্ষণের প্রয়োজন বাড়ায় অনেকেই নতুন ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজ কেনেন। এ কারণে ঈদুল আজহার সময়টিকে ফ্রিজ বিক্রির প্রধান মৌসুম বলা হয়।
বর্তমানে দেশেই ৯০ শতাংশের বেশি ফ্রিজ উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতি বছর ফ্রিজের বাজার প্রায় ১০ শতাংশ হারে বড় হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশের বাইরেও ফ্রিজ রপ্তানি হয়। ভবিষ্যতে ফ্রিজের বাজার আরও বড় হবে এবং গ্রামীণ বাজারই মূল বাজার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু কোরবানিকে সামনে রেখে জমে উঠেছে ফ্রিজের বাজার। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে বাড়ছে ক্রেতা সমাগম। কোনো কোনো শোরুমে ফ্রিজ কেনার পর টাকা জমা দিতে ব্যবস্থাপকের সামনে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে।
ফ্রিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, গত বছরের তুলনায় কোনো কোনো ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে বড় আকারের ও ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজের চাহিদা এবার বেশি।
জানতে চাইলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশে ফ্রিজের বাজার আগামী দিনে আরও বড় হবে। মানুষের আয় বাড়ছে, জীবনযাত্রার ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ও ডাবল ইনকাম পরিবার বাড়ায় এখন অনেকের জন্য ফ্রিজ প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। মানুষ প্রতিদিন বাজার করার সময় পায় না, তাই খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। ফলে শুধু গৃহস্থালি নয়, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতেও রেফ্রিজারেটরের চাহিদা বাড়বে।’
মিনিস্টার গ্রুপের হেড অব প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল হাসান স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে রেফ্রিজারেটরের বাজার বর্তমানে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর ব্যাপক প্রসার ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই শিল্পটি প্রতি বছর গড়ে ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বছরে প্রায় ৩৩ থেকে ৩৫ লাখ ইউনিট ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে।
কোরবানি সামনে রেখে দেশীয় ‘ভিশন’ ব্র্যান্ডের ফ্রিজের বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আরএফএল ইলেকট্রনিক্সের রেফ্রিজারেটর অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনার ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক মো. নুর আলম। তিনি বলেন, ‘সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও ফ্রিজের বাজারে চাহিদা বেড়েছে। ভিশন এখন দেশের বহু মানুষের প্রিয় হয়ে উঠেছে। কোরবানি সামনে রেখে গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে।’ নুর আলম আরও বলেন, ‘ঈদের আগে ফ্রিজের চাহিদা সাধারণত অনেক বেড়ে যায়। এবার এখন পর্যন্ত সেই মাত্রার চাপ না থাকলেও ঈদের আগের দু-তিন দিনে বিক্রি আরও অনেক বাড়বে বলে আশা করছি।’
আরএফএল ইলেকট্রনিক্সের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কোরবানিতে ফ্রিজের মূল বিক্রি হয় ঈদের এক সপ্তাহ। বিগত বছরগুলোতেও ঈদের আগমুহূর্তে ফ্রিজ বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য এ সময় বড় আকারের ফ্রিজের চাহিদা বাড়ে। এবারও এ ধরনের ফ্রিজের চাহিদা বেড়েছে। সামনের কয়েকদিনে বিক্রি আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছি।’
ভিশন ফ্রিজের বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে আন্তর্জাতিক মানের ফ্রিজ সরবরাহ করছি। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও এনার্জি এফিশিয়েন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করায় কম বিদ্যুৎ খরচে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে ভিশন ফ্রিজের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং বাজারে প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।’
দেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় মিনিস্টার ফ্রিজও। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এই ব্র্যান্ডের ফ্রিজের বিক্রিও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে মনে করছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে মিনিস্টার গ্রুপের হেড অব প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল হাসান স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ফ্রিজের চাহিদা অনেক বেড়েছে। ডিমান্ড অনুযায়ী ধারণা করছি, বিক্রি ২০ শতাংশেরও বেশি বাড়তে পারে। তবে ব্যাংক সহযোগিতা কিছুটা কম পাওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী র-মেটেরিয়াল সংগ্রহে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে।’ মনিরুল হাসান বলেন, ‘এখন ক্রেতারা নতুন ডিজাইন, ইনভার্টার টেকনোলজি, ডিজিটাল ডিসপ্লে ও ডিজিটাল কন্ট্রোলের মতো আধুনিক ফিচারের ফ্রিজ বেশি পছন্দ করছেন। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও লো-ভোল্টেজ সুবিধা থাকায় গ্রামাঞ্চল ও মফস্বলেও আধুনিক ফ্রিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।’
কোরবানি সামনে রেখে দেশের বাজারে দাপুটে অবস্থানে থাকা ওয়ালটন ফ্রিজের বিক্রিও বেড়েছে। জানতে চাইলে ওয়ালটন ফ্রিজের চিফ বিজনেস অফিসার মো. তাহসিনুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশে ঈদের সময়টাকে ফ্রিজ বিক্রির প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সারা বছরের ফ্রিজ বিক্রির প্রায় ৭০ শতাংশ ফ্রিজ বিক্রি হয় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময়ে। গতবারের চেয়ে এই ঈদে ফ্রিজের বিক্রি বেশ ভালো।’
নিজেদের ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তার কারণ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়ালটন এআই ও আইওটি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন মডেলের ফ্রিজ বাজারে এনেছে। পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবার নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে।’
রাজধানীর শেওড়াপাড়ার হায়ার শোরুমের ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান জয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কোরবানিতে ফ্রিজের মূল বিক্রি হয় ঈদের এক সপ্তাহ আগে। এ বছর এখন পর্যন্ত বিক্রি ভালোই হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এখন পর্যন্ত বিক্রি ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি রয়েছে।’ বিজয় সরণির র‌্যাংগস ই-মার্টের ব্যবস্থাপক আরিফুল বলেন, ‘বিক্রি মোটামুটি। তবে আগের চেয়ে কম। এখনো সেভাবে বিক্রি শুরু হয়নি। প্রত্যাশা ছিল নতুন সরকারের সময় বিক্রি আরও বাড়বে। তবে এখনও বিক্রি সেভাবে বাড়েনি।’
কচুক্ষেত এলাকার সিঙ্গার শোরুমের ম্যানেজার ফজলুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিক্রি এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। লাস্টের দিকে সেল হবে। গত বছরও লাস্টের দিকে শুরু হয়েছিল। কোরবানি সামনে রেখে অন্যান্য কোম্পানির মতো আমরাও নানা অফার দিচ্ছি।’
রাজধানীর শাহীনবাগের বাসিন্দা সজীব রহমান। বাসার পুরোনো ফ্রিজ নষ্ট হওয়ায় দেশীয় ব্র্যান্ডের একটি ফ্রিজ কিনেছেন তিনি। সজীব বলেন, ‘ফ্রিজটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিন হাজার টাকা দিয়ে ঠিক করাই। কিন্তু সেই আগের অবস্থা। নিচের অংশে রাখা সবজিজাতীয় পণ্য ঠান্ডা হয় না। আর সামনে কোরবানি, তাই বাধ্য হয়ে নতুন ফ্রিজ কিনলাম।’
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফার্মগেটের হায়ারের শোরুম থেকে এই ব্র্যান্ডের ডাবল ডোরের ফ্রিজ কিনেছেন তাহমিনা আক্তার। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাহমিনা বলেন, ‘বাসায় ফ্রিজ আছে, তবে সেটি ছোট। এবার ঢাকায়ই কোরবানি দেওয়া হবে। ফলে বড় ফ্রিজ প্রয়োজন ছিল। কোরবানি সামনে রেখেই নতুন ফ্রিজ কিনতে হয়েছে।’
রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটে কথা হলে হাবিব নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘ভালো মানের ফ্রিজের দাম অনেক বেশি। ডাবল ডোরের প্রায় সব ব্র্যান্ডের ফ্রিজের দাম এক লাখ টাকার ওপরে। নতুন নতুন প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ফ্রিজের দামও অনেক বেশি। এসব ফ্রিজ মধ্যবিত্তের নাগালে থাকলে ভালো হতো।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category