প্রভাত রিপোর্ট: স্বপ্ন যখন সাধনার পথ ধরে এগিয়ে যায়, সাফল্য তখন ধরা দেয় গৌরবের নতুন পরিচয়ে। আজ তেমনই এক আনন্দঘন মুহূর্তে মুখরিত ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ প্রাঙ্গণ। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের খবর পৌঁছাতেই উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ। কারও চোখে আনন্দাশ্রু, কারও মুখে অমলিন হাসি! কেউ শিক্ষকদের পা-ছুঁয়ে, কেউ বা বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে ভাগ করে নিচ্ছে সুদীর্ঘ পরিশ্রমের পুরস্কার। কলেজ প্রাঙ্গণের প্রতিটি কোণে আজ একটাই সুর: “আমরা পেরেছি!”।
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ থেকে মোট ৩১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩১৫২ জন। পাসের হার ৯৯.৮৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বমোট ১৩১১ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪২ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৯৯ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১২৮ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

দেশের অন্যতম শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব, ঐতিহ্যবাহী সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা-এর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায়, কো-চেয়ারম্যান আফরোজা রহমান লতা-এর সার্বিক বিষয়ে মাতৃস্নেহমাখা নিয়মিত তদারকি এবং কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নয়ন-এর ডায়নামিক নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন একদল অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। যুগোপযোগী পরিকল্পনা, কঠোর শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠের অগ্রগতি, প্রতিটি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ এবং শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি কার্যকর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ।
এবারের ফলাফল সম্পর্কে কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নয়ন বলেন, “এই সাফল্য কোনো একক প্রচেষ্টা বা একদিনের অর্জন নয়; বরং শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে প্রতিদিনের অসংখ্য পরিকল্পিত প্রচেষ্টার সমষ্টি এই অর্জন। আমরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াই। নিয়মিত ক্লাস, নিবিড় তদারকি, শিক্ষকদের আন্তরিকতা আর শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা মিলেই আজকের এই ফল। আমরা বিশ্বাস করি, শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনা থাকলে প্রতিটি শিক্ষার্থীই নিজের সেরাটা দিতে পারে। যারা আজ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে, তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আর যারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তাদের পাশেও আমরা আছি; কারণ জীবনের পথ অনেক দীর্ঘ, আর সম্ভাবনা অফুরন্ত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আত্মবিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।”

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এবারের পরীক্ষার প্রশ্নের মান, খাতা মূল্যায়ন ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন খবর শুনে দুশ্চিন্তায় ছিলাম! তাই রেজাল্টের খবর শোনার পর আনন্দে কয়েক মুহূর্ত কিছুই বলতে পারিনি। আমার এত রাতজাগা, এত চেষ্টা, সব যেন এক নিমেষে সার্থক হয়েছে আজ। বাবা-মায়ের দোয়া আর শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে এটা সম্ভব হতো না। কলেজের নিয়মানুবর্তিতা আমাকে লক্ষ্যে স্থির থাকতে শিখিয়েছে, আর নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা আমার প্রস্তুতিকে আরও সহজ করেছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”
অভিভাবক নীলুফার আক্তার তাঁর সন্তানের সাফল্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “সন্তানের হাসিমুখ দেখাটাই একজন বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এই কলেজ শুধু পড়ায়নি, আমার সন্তানের প্রতি যত্নও নিয়েছে। অনুপস্থিতি কিংবা পড়াশোনার অগ্রগতি, যেকোনো বিষয়ে শিক্ষকেরা নিয়মিত আমাদের জানিয়েছেন। তাঁদের এই দায়িত্বশীলতা আমাদের নিশ্চিন্ত রেখেছে। এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বরাবরই শিক্ষাকে জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর পরিকল্পনা ও স্বপ্নের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাঙ্গন আজ অসংখ্য শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে উঠেছে। সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের সাফল্যে গর্বিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মানুষ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেছিলাম, আজকের ফল সেই স্বপ্নেরই প্রতিফলন। আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই পথচলার শক্তি। এই সন্তানেরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই, যেন তারা মেধা ও সততায় দেশকে আলোকিত করতে পারে।”
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার এই ফলাফল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের ধারাবাহিক সাফল্যের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় সংযোজন করেছে। এ অর্জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রয়াসের স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণের অণুপ্রেরণা।
সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক আগামী প্রজন্ম, সাফল্যের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক-এই প্রত্যাশায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ পরিবার।