প্রভাত রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না।’ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে যে স্বপ্ন ছিল চব্বিশে, শেষবারের মতো মানুষ তার জীবন বাজি রেখেছিল। তারপর যখন দেখল, এটা কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি, এটা বাংলাদেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান, অদ্ভুতভাবে কিছু নেই থেকে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটা প্রকল্প, তখন স্বাভাবিকভাবেই গণমানুষ হাজারবার, লক্ষবার, কোটিবার চিন্তা করবে এ রকম গণ-অভ্যুত্থানে যাওয়ার জন্য।’
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন। ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।
আলোচনায় রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তুলে বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাব ছাড়া নারীরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলেন, গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে সেই পরিবেশ কেন রক্ষা হলো না? চব্বিশের অভ্যুত্থানের ঠিক পরেই মুক্তিযুদ্ধের মুর্যাল ও ভাস্কর্যগুলো কারা ভাঙল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একাত্তর আর চব্বিশকে কেন মুখোমুখি করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন।
গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে দেশে ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। সেটা আগে জানলে কয়জন রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০ এর গণ আন্দোলনের পরও দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে এবং প্রতারিত হয়েছে।’ ’৪৭, ৭১ ও ৯০ সালের আন্দোলনের পরে জাতিগতভাবে দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পরে প্রতারিত না হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও ব্যর্থ হয়েছেন বলেন তিনি।
প্রতিবারের মতো এবারও আন্দোলনপরবর্তী অংশীজনদের বিভাজনের চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন হাসনাত কাইয়ুম। নতুন রাজনীতির কথা বলা ব্যক্তিরাও বিভক্ত হয়েছেন বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকটা আসনের জন্য বিএনপির দিকে, অথবা সংস্কারের দোহাই দিয়ে কয়েকটা আসনের জন্য কেউ জামায়াতের দিকে চলে গেলেন।’
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর ১২টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও পরে তা একটি ‘ঐক্যমত কমিশনে’ সীমিত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ছোট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত কাইয়ুম। তাঁর মতে, জুলাই সনদ আর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, চব্বিশ পরবর্তী গণমানুষের বহুল আকাঙ্ক্ষিত যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা ছিল, সেটা এখনো উপেক্ষিত। সংস্কারের জন আকাঙ্ক্ষা অর্জিত না হলে বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খাবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, গণ অভ্যুত্থান সংগঠিত করা যত সহজ, অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তাই জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সামনে এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিরল সুযোগ রয়েছে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার, সিরাজ মিয়া প্রমুখ।