• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
Headline
চ্যানেল আইয়ে নায়িকা পূর্ণিমার জন্মদিন পালন পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে জয়া অভিনীত সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী চার বছর আগে গ্রেপ্তার নিয়ে পরীমনি বললেন, ‘আমার সম্মান কি ফিরিয়ে দেবে রাষ্ট্র?’ দক্ষিণ দিল্লির পঞ্চশীল পার্কের সেই বাড়িও কিনে নিলেন শাহরুখ খান ভেঙে গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেত্রী ও গায়িকা আইইউয়ের প্রেম নতুন কোচ হোর্হে জেসুস বললেন, রোনালদো ফিট থাকলে দলে জায়গা পাবেন এক দল হিসেবে মানুষ মনে রাখুক আর্জেন্টিনাকে: স্কালোনি এবার কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার নামে শামুকের নাম রাখলেন বিজ্ঞানী বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক বাড়ছেই ‘একজন নিষিদ্ধ, অন্যজন মাফ’ কেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাসের এক টুকরার দাম ৫৫ হাজার টাকা

নাজাফে খামেনির শোক র‍্যালি, লাখো মানুষের ভিড়

Reporter Name / ১২ Time View
Update : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে পৌঁছেছে। শহরটিতে একটি শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। এতে লাখো অনুসারী যোগ দিয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরাকি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরাকসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশের অনুসারীরা র‌্যালিতে যোগ দিয়েছেন। এতে উপস্থিতির সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে।
ইরাকের আল-আহদ টিভি জানিয়েছে, ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার অনুসারী নাজাফে এসে পৌঁছেছেন। র‌্যালি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় তারা রাস্তায় ও ইমাম আলীর (রা.) মাজারের চারপাশে অবস্থান নেন।
নাজাফে অবস্থিত ইমাম আলীর (রা.) মাজারে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখো ইরাকি কফিন কাঁধে করে বহন করেন।
প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৬টায় নাজাফে খামেনির শোক র‌্যালি শুরু হয়েছে। এরপর মাজার থেকে কুফা সেতু ও থাওরাত আল-আশরিন চৌরাস্তা হয়ে আল-সাদরিন স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হয়। পরবর্তীতে কফিনটি কারবালার দিকে যাত্রা করে।
ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস জানিয়েছে, নাজাফে অনুষ্ঠিত শোক র‌্যালিতে ২৩ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকাহতরা আসতে থাকায় এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
পৃথক এক প্রতিবেদনে আল মায়াদিন টেলিভিশন কারবালা গভর্নরেটের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ কারবালায় ৭০ লাখ মানুষের ব্যক্তিকে নথিভুক্ত করেছে।
সরকারি সময়সূচিতে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেলে কফিন পবিত্র নগরী কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত এটি নাজাফে অবস্থান করবে।
খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার জন্য ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি বুধবার সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। তিনি বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ গ্রহণ করেন।
গত শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ খামেনির কফিনে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর মধ্য দিয়ে দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শনিবার ও রবিবার যথাক্রমে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তা উন্মুক্ত রাখা হয়। সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে শহরের রাজপথ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মঙ্গলবার শহীদ নেতার জানাজার নামাজ আদায় করতে কোমের পবিত্র জামকারান মসজিদে লাখো অনুসারী সমবেত হন।
শহীদ নেতার ইচ্ছানুযায়ী, বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে দাফন করা হবে এবং তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে পাল্টা হামলার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, তাদের বাহিনী ধারাবাহিক শক্তিশালী হামলা শুরু করেছে। একটি আন্তর্জাতিক জলপথে নিরীহ বেসামরিক নাবিকবোঝাই বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানকে কঠোর মূল্য দিতে হামলা চালানো হচ্ছে।
এক্স পোস্টে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের এ আগ্রাসন ছিল ‘অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’। তবে ইরানের কোথায় হামলা চালানো হয়েছে, তা জানায়নি সেন্টকম।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ফারসের বরাত দিয়ে আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক ও কেশম এলাকার কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট উৎসস্থল ও কারণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। ওমান উপকূলের অদূরে হরমুজ প্রণালিতে গত সোমবার অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাত লাগার কথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক–পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধ বন্ধে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে গত ১৮ জুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্র। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ওই সমঝোতার ১০ নম্বর শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, দেশটির জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ‘অস্থায়ী ছাড়’ বাতিল করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে। এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সমঝোতা স্মারক সইয়ের ২০ দিনের কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করল। এতে প্রমাণিত হয়, মার্কিন প্রশাসনকে কখনোই বিশ্বাস করা যায় না।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category