মো. বাবুল শেখ,পিরোজপুর : পিরোজপুরে নিজের বড় ছেলের বিরুদ্ধে মারধর, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন ৬৪ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অসুস্থ স্ত্রীকে নিজ হেফাজতে নেওয়ার সুযোগ চেয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সেলিম হাওলাদার।
অভিযোগে সেলিম হাওলাদার উল্লেখ করেন, তিনি অবসর গ্রহণের পর স্ত্রী খাদিজা বেগমকে নিয়ে ইন্দুরকানী উপজেলার লক্ষীদিয়া বারৈড়খালী এলাকায় বসবাস করে আসছেন। পিরোজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ শিকারপুর এলাকাতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িতে তার মেজ ছেলে মো. মাহমুদ হোসাইন বসবাস করে দেখাশোনা করতেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার বড় ছেলে মো. খাইরুল বাশার (জিয়া) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মাদকের টাকার জন্য বিভিন্ন সময় তার কাছে টাকা দাবি ও তাকে মারধর করে আসছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, অসুস্থ হয়ে পড়লে সেলিম হাওলাদারের স্ত্রী খাদিজা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার মেজ ছেলে খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্ত্রীকে দেখতে গেলে সেখানে খাইরুল বাশার তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং নিষেধ করায় মারধরের জন্য চড়াও হন বলে অভিযোগ করেছেন সেলিম।
অভিযোগে সেলিম আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে তার স্ত্রী সুস্থ হওয়ার পর তার স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ও তার মেজ ছেলে দেখা করতে দক্ষিণ শিকারপুরের বাড়িতে গেলে খাইরুল বাশার তাদের গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য চড়াও হন। একই সঙ্গে স্ত্রীকে তার সঙ্গে দেখা করতে না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় স্ত্রীকে দেখতে গেলে তাকে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তার স্ত্রী ও মেজ ছেলে খাইরুল বাশারের কাছ থেকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।
সেলিম হাওলাদার অভিযোগে তার অসুস্থ স্ত্রীকে উদ্ধার করে ইন্দুরকানীর লক্ষীদিয়া বারৈড়খালী এলাকায় নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও দেখাশোনার ব্যবস্থা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত খাইরুল বাশারকে একাধিকবার ফোন করেও বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মোঃ শরিফুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।