• শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
বাংলাদেশের শীর্ষ বিনিয়োগকারী ও বেসরকারি ঋণদাতা চীন ব্যাংকখাত থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ সরকারের বেতনের ১২০ গুণ ক্ষতিপূরণ দাবি এইচএসবিসি-র ২৫৭ চাকরিচ্যুত কর্মকর্তার রাশিয়া ও ইউক্রেনকে পেছনে ফেলে গম আমদানির শীর্ষে আর্জেন্টিনা ‘গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট’: বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ নতুন ধনকুবের সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মাছ-মুরগির দাম হাসপাতাল থেকে বিদেশে, পাকিস্তানে গর্ভফুল বিদেশে পাচার, গোপন বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রচণ্ড গরম,স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ব্যাহত পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ডানপন্থী কেইকো ফুজিমোরি আরও তীব্র হতে পারে এল নিনো , বাড়ছে চরম আবহাওয়ার আশঙ্কা

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ডানপন্থী কেইকো ফুজিমোরি

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী কেইকো ফুজিমোরিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার দেশটির ইলেকটোরাল কোর্ট ন্যাশনাল জুরি অব ইলেকশনস (জেএনই) এ ঘোষণা দিয়েছে। গত ৭ জুন পেরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ হয়। মাসখানেক পর দেওয়া আনুষ্ঠানিক ফলাফলে ফুজিমোরি বামপন্থী প্রার্থী কংগ্রেস সদস্য রবার্তো সানচেজকে পরাজিত করলেন।
ভোট গণনা শেষ হয় গত সপ্তাহের শুরুতে। গতকাল ঘোষণা করা ফলাফলে দেখা যায়, খুবই স্বল্প ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ফুজিমোরি। তিনি পেয়েছেন ৯২ লাখ ২৩ হাজার ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী সানচেজ পেয়েছেন ৯১ লাখ ৭৩ হাজার ভোট।
আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর ফুজিমোরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো।’
ফুজিমোরি আরও লিখেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব, বিনয় ও গভীর কর্তব্যবোধের সঙ্গে এ দায়িত্ব নিচ্ছি। এ রূপান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিটি দিন শোনার, সংলাপে অংশ নেওয়ার এবং নতুন সরকারের প্রস্তুত হওয়ার একটি সুযোগ।’
পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে ৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরি। আলবার্তো মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ১৬ বছর কারাভোগ করেছিলেন।
গত এপ্রিলে পেরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হয়। তবে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে (রান–অফ) গড়ায় নির্বাচন। ৩৩ জন প্রার্থীকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কেইকো ফুজিমোরি ও রবার্তো সানচেজ। যদিও এপ্রিলের নির্বাচনে ব্যালট বিতরণে বিলম্ব ও উভয় দফার ভোটের পর দীর্ঘ সময় ধরে গণনা পেরুর এবারের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল কারচুপির অভিযোগও তুলেছে।
গ্রামীণ ও আদিবাসী ভোটারদের মধ্যে সানচেজের শক্তিশালী সমর্থন ছিল। তিনি ভোট গণনায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। যদিও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
সানচেজ নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি নিয়ম বদলের সমালোচনা করেন। দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রবাসী ভোটারদের দেওয়া ভোট ডিজিটালি গণনার নিয়ম রয়েছে। এবারের নির্বাচনের আগে এ নিয়ম মানার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরাও বলছেন, এখন পর্যন্ত ভোট কারচুপির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রাজধানী লিমা থেকে আল–জাজিরার সাংবাদিক মারিয়ানা সানচেজ বলেন, প্রবাসী ভোটারদের সমর্থন ফুজিমোরির বিজয়ে সহায়তা করেছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক আরও বলেন, রবার্তো সানচেজ পেরুতে বেশি ভোট পেয়েছেন। কিন্তু প্রবাসীদের ভোট ফুজিমোরির পক্ষে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতা নেওয়ার পর ফুজিমোরিকে অভিশংসিত করতে রবার্তো সানচেজ তাঁর সমর্থকদের একত্র করার চেষ্টা করতে পারেন।
গত সপ্তাহে কেইকো বলেছেন, ‘দুই শিবিরে ভাগ হয়ে যাওয়া’ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি অপরাধ কমানো এবং বিদ্যমান চরম বৈষম্য দূর করারও অঙ্গীকার করেছেন।
জুলাইয়ের শেষের দিকে পেরুর স্বাধীনতা দিবসে দেশের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ নেওয়ার কথা। তাহলে ফুজিমোরি হবেন ২০১৬ সালের পর দেশটির দশম প্রেসিডেন্ট। কেইকো ফুজিমোরির জয়ে একদিকে যেমন লাতিন আমেরিকার ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা আরও সুসংহত হলো, তেমনি গত তিন দশকের মধ্যে পেরুর অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের প্রত্যাবর্তনও নিশ্চিত হলো।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category