• রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
Headline
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও শৃঙ্খলায় বাড়ছে রোগীদের আস্থা নাজিরপুরের সেখমাটিয়ায় ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত এ সরকার সবসময় জনগণের পাশে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ চায় চীনের মতো একটি শক্তি পাশে থাকুক: মির্জা ফখরুল স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ আটকাতে ইসিতে জামায়াতের প্রস্তাব নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রেস সচিব এসএসসি পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই প্রকাশিত হচ্ছে না যারা ট্রল করছে তারা কেউ ছাত্র নয়: শিক্ষামন্ত্রী

প্রাকৃতিক দুর্যোগ: পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রম চলমান

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদফতরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার দফতর ও সংস্থাগুলো চলমান আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আগামী ২ থেকে ৩ দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ১২ জুলাই দুপুর ২টা থেকে রেল চলাচল স্বাভাবিক আছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ছয়টি উপজেলায় (সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ) অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরের ২৫টি ওয়ার্ডসহ বন্যায় প্লাবিত ১৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৩টি ইউনিয়ন। এছাড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৯ হাজার ২০৮টি, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৬ হাজার ২০টি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০৫টি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৫৯২ কিলোমিটার ও ক্ষতিগ্রস্ত সেতু বা কালভার্ট ১৬৯টি এবং মৃত ব্যক্তির সংখ্যা ১৬ জন।
এতে আরও জানানো হয়, জেলায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় সবাই আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ফিরে গেছে। ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৯৫ লাখ টাকা ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ দশমিক ৭৫ লাখ টাকা এবং ৫৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া বাঁশখালী উপজেলায় ৮টি, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০টি, চন্দনাইশ উপজেলায় ৬টি, রাউজান উপজেলায় ২টি ও রাংগুনিয়া উপজেলায় ৩টিসহ মোট ২৯টি পয়েন্টে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংযোগ বিছিন্ন হওয়া সড়কগুলো দ্রুত চলাচল উপযোগী করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস খাগড়াছড়ির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলায় এখন বৃষ্টি নেই এবং নতুন করে কোনও এলাকায় পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। জেলায় অধিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২৭৫টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৭৬৬টি। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ফসলের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৪৪ জন। মৎস্য খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, ৪০০ মেট্রিকটন চাল, ৪০ লাখ টাকা, ৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। মজুত করা ত্রাণের পরিমাণ ১০০ মেট্রিক টন চাল, ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং নতুন করে কোনও এলাকায় পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২ হাজার ৪৭৫টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার ৭৭৩টি। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৮০ কোটি টাকা। মৎস্য খাতে মোট ক্ষতির পরিমান ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। জেলায় প্রাপ্ত ত্রাণ ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, ৪৪৫ মেট্রিকটন চাল এবং ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজারের কর্তৃক ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস হবিগঞ্জের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলাসহ মোট তিনটি উপজেলা খোয়াই নদী ভাঙনে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় ৪ হাজার ৫৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বর্তমানে বৃষ্টি কম হওয়ায় প্লাবিত এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে।
জেলা তথ্য অফিস মৌলভীবাজার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সরকারের গৃহীত কার্যক্রমসমূহ-বন্যার্তদের জন্য ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস বান্দরবান থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category