প্রভাত রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি হাসপাতাল) পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে অর্জিত লভ্যাংশের বদলে মোট আয়ের ওপর অর্থ ভাগ বাটোয়ারা করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে নেওয়া এই অর্থ আদায় এবং সার্বিক অডিট আপত্তি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি) প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। গঠিত সাব-কমিটিকে সরেজমিনে অনিয়ম তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডা. তাহের জানান, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংবিধানিকভাবে এক নম্বর কমিটি হিসেবে স্বীকৃত। কমিটির মূল কাজ হলো সরকারের বর্তমান ও অতীতের সমস্ত ব্যয় পর্যালোচনা করা এবং অডিট আপত্তির বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া। আজকে যদিও এটি পরিচিতিমূলক সভা ছিল, তবুও কার্যকর ফলাফলের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে আটটি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কিছু আপত্তি নিষ্পত্তি হলেও বাকিগুলো তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একটি প্রধান অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ম হলো লভ্যাংশের ৩০ শতাংশ বিশেষজ্ঞরা পাবেন। কিন্তু তা না করে তারা মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ অর্থ তুলে নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, ১০০ টাকা আয় এবং ৯০ টাকা ব্যয় হলে অবশিষ্ট ১০ টাকার ওপর লভ্যাংশ হিসাব করার কথা থাকলেও পুরো ১০০ টাকার ওপর লভ্যাংশ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বাড়তি তুলে নেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন। এই টাকা যে কোনো মূল্যে আদায় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি মাসে এর অগ্রগতির প্রতিবেদন কমিটিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
ডা. তাহের আরও জানান, বহু পুরোনো অডিট নিয়ে কাজ না করে নিকট অতীত অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালের অডিটগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেন বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়। বর্তমান সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার বা অন্যান্য সরকারের আমলের অডিট আপত্তিগুলো পর্যায়ক্রমে সামনে আনা হবে। বড় ধরনের দুর্নীতি যেসব জায়গায় হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ কমিটির প্রতিটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।