প্রভাত বিনোদন : বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী। এ সময় তারা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি আগামী দিনে সাধারণ শিল্পীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভোটারদের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন নতুন সভাপতি শিবা শানু। বলেন, যারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে, তাদের মনে এত বেশি বিশ্বাস ছিল আমার প্রতি, এত ভালোবাসা ছিল আমার প্রতি, যে তাদের এই ভালোবাসা, এই বিশ্বাসের পুরোপুরি মর্যাদা আমি কীভাবে রাখব, সেইটাই এখন আমাকে বেশি ব্যাকুল করে তুলেছে।
গলায় থাকা ফুলের মালা সরিয়ে রেখে তিনি আরও বলেন, এই যে গলায় ফুলের মালা, এটা আমার এখনও পরার সময় হয় নাই। আমি এটা সেদিনই শিল্পীদের কাছ থেকে পরব, যেদিন তাদের প্রতিশ্রুতি পুরণ করতে পারব।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে অভিনেতা জয় চৌধুরী তাদের নির্বাচনী প্যানেলের পুরো যাত্রার বিবরণ তুলে ধরেন। সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও কার্যকর কমিটি গঠনের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা সুন্দর একটা পরিষদ গঠন করব। সেই হিসাবে আমাদের অনেক সিনিয়ারদেরকে নিয়ে আর আমাদের এরকম একজন কর্মঠ এবং একজন ভালো মনের একজন মানুষ, যিনি আমাদের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট ছিলেন, তাকে নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম।
প্যানেল গোছানোর নেপথ্যের মানুষদের স্মরণ করে জয় চৌধুরী আরও জানান, তাদের সহযোগী হিসাবে সবার প্রিয় সুব্রত দা তার টোটাল টিমটাকে সাজিয়েছিলেন এবং সাথে জ্যাকি ভাইও ছিলেন। নির্বাচনী লড়াইয়ের পথটা বেশ কঠিন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবকিছু মিলে আমাদের যাত্রাটা অতটা সহজ ছিল না, যতটা সহজে আমরা এতটা গুছিয়ে উঠতে পেরেছি। পরিশেষে, নবনির্বাচিত এই দুই নেতা সাধারণ শিল্পীদের হাত ধরে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখ্য, ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জয় চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট। শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনভর উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন; তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইটার ও প্রযোজক আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট। শনিবার (৫ জুলাই) ভোরে এফডিসিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরিত ফলাফলের একটি বিবরণীতে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ৫৭৬ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪৮০ জন। ভোট গণনায় ৪৬৩টি ব্যালট বৈধ এবং ১৭টি বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।
সহ-সভাপতির দুই পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডি এ তায়েব ও ইলিয়াস কোবরা। ডি এ তায়েব সর্বোচ্চ ২৬০ ভোট এবং ইলিয়াস কোবরা ২১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেত্রী নূতন ২০৪ এবং রোজিনা ১৫২ ভোট পেয়েছেন।
এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিনা খান পেয়েছেন ১৫০ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী চুন্নু পেয়েছেন ১৮৩ ভোট। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন; প্রতিদ্বন্দ্বী পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।
দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাসেল মিয়া ১৯৫ ভোট পেয়েছেন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই পদে অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মোসফেকুল জামিল (কাকন) ১১৮ ভোট এবং ইউসুফ খান ৭২ ভোট পেয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে কামরুজ্জামান কমল ২২১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাদু আজাদ পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।
এছাড়াও কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদে বিজয়ীরা হলেন- চিত্রনায়ক কায়েস আরজু, আলীবরাজ, নাসরিন, জেসমিন আক্তার, সুশান্ত, শিপন মিত্র, শামীম খান (চিকন আলী), রাকা, শিরিন শিলা, কাবিলা ও ফরহাদ। তাদের মধ্যে ৩২৪ ভোট পেয়ে প্রথম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কায়েস আরজু।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মাঝে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। নির্বাচন ঘিরে এক মাস ধরে চলচ্চিত্রশিল্পীদের উপস্থিতিতে সরগরম ছিল এফডিসি প্রাঙ্গণ। প্রার্থীদের ব্যস্ততা, সমর্থকদের আনাগোনা এবং নানামুখী প্রচারণায় পুরো এলাকায় দেখা গেছে নির্বাচনী আবহ। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুটি প্যানেলের মধ্যে। এর মধ্যে একটি প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন আরমান ও রুমানা ইসলাম মুক্তি। আরেকটিতে আছেন শিবা শানু ও জয় চৌধুরী।