• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
জয়পুরহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তরুণ নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বাস মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন নারায়ণগঞ্জে সতর্ক পুলিশ, কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা দীর্ঘ বিরতি শেষে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে, উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর হামলা করছে ফ্যাসিস্ট শক্তি : অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আশুলিয়ায় মিছিল নিয়ে সড়কে শ্রমিকরা আশুলিয়ায় ১ হাজার ৮৬৩ কারখানার মধ্যে বন্ধ ৭০, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ : নাহিদ ইসলাম গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের পালে জন্ম নিলো চারটি শাবক ‘কত বড় সাহস, গায়ে হাত দেয়’—আদালত চত্বরে ক্ষুব্ধ পরীমনি
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর জন্মদিন আজ

মানুষের হৃদয়ে আজও বেঁচে আছেন ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোর

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন: কিছু কণ্ঠ শুধু গান শোনায় না, ছুঁয়ে যায় মানুষের হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতি। সময়ের স্রোত পেরিয়ে সেই কণ্ঠের গান থেকে যায় মানুষের স্মৃতিতে, জীবনের নানা মুহূর্তে। বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য কালজয়ী গানে এমনই এক স্বতন্ত্র কণ্ঠ হয়ে আছেন এন্ড্রু কিশোর। কয়েক হাজার গানে কণ্ঠ দেওয়া এই শিল্পীর জনপ্রিয় গানের সংখ্যা অগণিত। বাংলা সিনেমার গানে অসামান্য অবদানের জন্য যিনি পরিচিত ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে, সেই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর জন্মদিন আজ।
১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। তার বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মা মিনু বাড়ৈ রাজশাহী মহানগরীর বুলনপুর মিশন গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। মায়ের কাছেই তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। সংগীতের প্রতি বিশেষ অনুরাগ ছিল মায়ের। তাঁর প্রিয় শিল্পী ছিলেন কিশোর কুমার। প্রিয় শিল্পীর নামের অনুপ্রেরণায় ছেলের নাম রেখেছিলেন কিশোর। মায়ের সেই সংগীতপ্রেম ও স্বপ্নই পরবর্তী সময়ে এন্ড্রু কিশোরকে সংগীতের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
রাজশাহীতেই বেড়ে ওঠেন এন্ড্রু কিশোর। পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সংগীতের প্রাথমিক পাঠ নেন আব্দুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। স্বাধীনতার পর নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন ধারার শিল্পী হিসেবে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন তিনি।
১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানটির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন এন্ড্রু কিশোর। তার রেকর্ড করা দ্বিতীয় গান ছিল বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে শ্রোতাদের কাছে বিশেষ পরিচিতি পান এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি গেয়ে।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়ে হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার অন্যতম নির্ভরতার নাম। ১৯৮২ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। সৈয়দ শামসুল হকের লেখা ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানটিতে তার কণ্ঠ শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
১৯৮৪ সালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে তিনটি গানে কণ্ঠ দেন এন্ড্রু কিশোর। গানগুলো হলো—‘আমার সারা দেহ’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’ ও ‘আমার বুকের’। এভাবেই অসংখ্য চলচ্চিত্রের গানে নিজের কণ্ঠের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন তিনি। তার গাওয়া অনেক গান এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।
বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও গান গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। ভারতের প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আর ডি বর্মণের সুরে ‘সুরজ’ চলচ্চিত্রে হিন্দি গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এ ছাড়া এই সংগীত পরিচালকের সুরে আরও দুটি বাংলা গানেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি।
এন্ড্রু কিশোরের জনপ্রিয় গানগুলোর তালিকা তৈরি করা সহজ নয়। তার কণ্ঠে অসংখ্য গান শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সেসবের মধ্যে রয়েছে—‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে’, ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘চোখ যে মনের কথা বলে’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘তুমি বন্ধু আমার চিরসুখে থাকো’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘ও সাথী রে যেও না কখনো দূরে’, ‘কী জাদু করেছো বলো না’, ‘প্রতিদিন ভোর হয়’, ‘এত প্রেম ছিল’, ‘চাঁদের সাথে আমি দেবো না’, ‘আকাশেতে লক্ষ তারা’ ও ‘কারে দেখাবো মনের দুঃখ’।
ব্যক্তিগত জীবনে লিপিকা এন্ড্রু ইতির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই শিল্পী। তাদের দুই সন্তান—মেয়ে সংজ্ঞা ও ছেলে সপ্তক। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা অর্জনের পাশাপাশি পেয়েছেন নানা সম্মাননা ও পুরস্কার। শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। এ ছাড়া পাঁচবার বাচসাস পুরস্কার এবং দুইবার মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০২০ সালের ৬ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা গানের এই কিংবদন্তি। শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও তার কণ্ঠের গান আজও বেঁচে আছে শ্রোতাদের ভালোবাসায়। জন্মদিনে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অমর হয়ে থাকা সেই প্লেব্যাক সম্রাটকে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category