• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline
ময়মনসিংহে বাসে যাত্রী জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, আটক ‘মূলহোতা’ চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের ৬৩ সদস্য গ্রেফতার পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬ কেমিক্যাল ও শিল্পখাতে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আয়োজিত হলো ‘রেডমিন হরাইজন -২০২৬’ রাজধানীতে অর্ধ কোটি টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ১ গ্রামবাংলায় শরতের আসল রূপ পরিমিত সাজসজ্জা এবং গোছানো পরিবেশই ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি ভূমিকা রাখে দক্ষিণ ভারতের পাহাড়ি নীলকুরিঞ্জি প্রায় ১২ বছর পর ব্যাপকভাবে ফুল ফোটে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সুইজারল্যান্ড যেন স্বপ্নের মতো এক জায়গা শরীর সুস্থ রাখতে যেসব খাবারের দিকে নজর দেয়া জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর পর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নতুন এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতির ‘মূল চালিকা শক্তি’ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তবে ইরান বলছে, তাদের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারেরা ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না। সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপগুলো ঘোষণা করেন। তবে সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে তিনি বিরত থাকেন। বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ডলারের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
কোন কোন দেশকে লক্ষ্য করে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, তা জানাননি বেসেন্ট। এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কবে কার্যকর হবে, সেটিও বলেননি তিনি। তাঁর ভাষ্য, নতুন নির্দেশনা মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সময় দেওয়া হবে। তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এ তালিকায় ইরানের তেল–বাণিজ্যে সহায়তা করার অভিযোগ থাকা চীনের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেই।
ওই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিলে তারা সামরিক জবাব দেওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরও কমিয়ে দিতে পারে। পরে ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে মাদানিজাদেহ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসী হামলা চালাতে চায়। কিন্তু আমাদেরও নিজস্ব হাতিয়ার আছে এবং আমরা জানি কীভাবে এ খেলা খেলতে হয়। আমাদের প্রতিরক্ষা এখন আর শুধু আত্মরক্ষামূলক নয়; শত্রুদের হামলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
ইরানি অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ ‘গ্রহণ করেনি’। অন্য দেশগুলোও এসব নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে বড় ধরনের আঘাত হানা হবে। প্রেস টিভি এ কথা জানিয়েছে।
জনপ্রিয়তা হারানো ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এ প্রশাসন আরও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে হচ্ছে। যদিও কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানা স্তরের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ইরান। এসব নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও ইরানের নেতৃত্বকে তাদের অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষ বড় ধরনের হামলা চালায়নি। তারপরও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে যুদ্ধ এগোচ্ছে, এমন লক্ষণও খুব কম। এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালি হয়ে চলাচল করা জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধে নতুন পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরেও ইরানের হামলা বন্ধের চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানে হামলা শুরুর পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেছে ইরান যুদ্ধ। যুদ্ধে ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতেও চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।
তবে ইরানের কাছে এখনো উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানোর মতো যথেষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোও হুমকিতে রাখার সক্ষমতা রয়েছে তাদের। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা অবশ্য এখনো অজানা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে চায়। ইরান যুদ্ধে নিহত হয়েছেন হাজারো মানুষ। তাঁদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের। সোমবার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরও দিনটিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category