নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ভূয়া নিকাহ্ রেজিস্ট্রার মোজাফ্ফর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বেআইনি কার্যক্রমের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উক্ত ইউনিয়নের বৈধ নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কাজী মো. বেলাল হোসাইন। সোমবার সকাল ১১টায় স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।লিখিত বক্তব্যে কাজী বেলাল হোসাইন জানান,২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ থেকে তিনি কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান এবং এরপর থেকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অপরদিকে, অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক নিকাহ্ রেজিস্ট্রার মোজাফ্ফর হোসেনের লাইসেন্স ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বাতিল করা হয়।পরবর্তীতে লাইসেন্স ফিরে পেতে মোজাফ্ফর হোসেন হাইকোর্ট বিভাগে দু’টি রিট পিটিশন (মামলা নং ৭৬৯/২০১১ ও ১০২৩৯/২০১১) দায়ের করেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ২২ জুন হাইকোর্ট বিভাগ মামলা দু’টি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও আবেদন করেন, যা ২০২৪ সালের ১২ মে খারিজ হয়ে যায়।কাজী বেলাল অভিযোগ করেন, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও মোজাফ্ফর হোসেন তার কাছে থাকা সরকারি ভলিউম ও নথিপত্র জমা দেননি।
জেলা রেজিস্টার কার্যালয় থেকে ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর (স্মারক নং ৫৫৭) নথিপত্র হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা অমান্য করেন। বর্তমানে সরকারি কোনো ভলিউম সরবরাহ না থাকা সত্ত্বেও তিনি বাজার থেকে ভূয়া ভলিউম কিনে অবৈধভাবে বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী বেলাল আরও উল্লেখ করেন, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় মোজাফ্ফর তার দলবল নিয়ে কাজী বেলালের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অভিযুক্ত মোজাফ্ফর আরও বেপরোয়া হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, যা তার নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। ভূয়া কাজীর এমন কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
ভূয়া কাজী মোজাফ্ফর হোসেনের অপকর্ম বন্ধ ও আইনি ব্যবস্থার দাবিতে ইতোমধ্যেই (৩০ আগস্ট ২০২৬) আইন সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি, নওগাঁ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা রেজিস্ট্রার এবং রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরবারে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী বেলাল হোসাইন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভূয়া কাজী মোজাফ্ফরের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে ছোট ভাই মো. জালাল আহমেদ ও ছেলে ইমামুল মুত্তাকিন উপস্থিত ছিলেন।