• বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
Headline
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভৌতিক-থ্রিলারে প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করবেন সাইফ-কিয়ারা আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে সালমান খানের আরবি চলচ্চিত্র অ্যাকশন থ্রিলার ‘৭ ডগস’ বাগেরহাটে কিশোরী ও নারীর স্বাস্থ্য, জলবায়ু সহনশীল উপকূল শীর্ষক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ইসলামে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিভাবনা নবী মুসার জননী যেভাবে আল্লাহর ওপর আস্থা রেখেছেন কোরআনে বর্ণিত ৬ নারীর জীবনীতে যে শিক্ষা রয়েছে একটি উচ্চতর নৈতিক নির্দেশনা এবং আচরণগত পথনির্দেশ করে সুরা মাউন এবার ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ‘নতুন ভূখণ্ড’দিাবি করল ইরান সন্তানদের নিয়ে অবশেষে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান

লন্ডনের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ হোয়াইটচ্যাপেল বাজার

Reporter Name / ১৩১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের হোয়াইটচ্যাপেল। ব্যস্ত শহরের কোলাহলের মাঝেও এই এলাকার একটি খোলা বাজার প্রতিদিন তৈরি করে এক ভিন্ন আবহ। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় জমে ওঠে মানুষের ভিড়। চারপাশে ভেসে আসে বাংলা, ইংরেজি, উর্দুসহ নানা ভাষার কথোপকথন।
দোকানের সামনে সাজানো তাজা শাকসবজি, মাছের সারি, দেশীয় মসলার গন্ধ আর পরিচিত মুখের আন্তরিকতা,সব মিলিয়ে মুহূর্তের জন্য মনে হয়, এটি লন্ডনের কোনো রাস্তা নয়; যেন বাংলাদেশের কোনো ব্যস্ত শহরের চেনা বাজার।
হোয়াইটচ্যাপেল খোলা বাজার শুধু একটি কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি প্রবাসী মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি সাংস্কৃতিক ঠিকানা।
কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠা এই বাজারে মানুষ শুধু প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসেন না, বরং ফিরে পান নিজের শিকড়ের অনুভূতি। বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষের কাছে এই বাজার এক ধরনের নস্টালজিয়ার নাম।
এখানে পাওয়া যায় দেশের পরিচিত সবজি, মাছ, চাল, ডাল, মসলা ও নানা ধরনের খাদ্য উপকরণ। এসব পণ্য শুধু রান্নার উপাদান নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে গ্রামের বাড়ির স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় এবং ফেলে আসা জীবনের গল্প। প্রবাসের ব্যস্ততার মাঝে হোয়াইটচ্যাপেলে এসে অনেকেই যেন কিছুক্ষণের জন্য ফিরে যান নিজের পরিচিত জগতে।
এই বাজারের বিশেষত্ব হলো এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশি মানুষের পাশাপাশি ভারতীয়, পাকিস্তানি, শ্রীলঙ্কানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ এবং স্থানীয় ব্রিটিশ নাগরিকরাও এখানে আসেন। একই বাজারে বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যের মানুষের মিলন হোয়াইটচ্যাপেলকে লন্ডনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজের একটি প্রতিচ্ছবিতে পরিণত করেছে।
বাংলা সংস্কৃতির উপস্থিতিও এখানে স্পষ্ট। বাংলা ভাষায় কথোপকথন, দেশীয় খাবারের উপকরণ, উৎসবের প্রস্তুতি-সবকিছু মিলিয়ে বাজারটি হয়ে উঠেছে প্রবাসে বাংলা ঐতিহ্য ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বাংলাদেশি মুসলিম পরিবার যেমন ঈদ ও দৈনন্দিন রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করেন, তেমনি বাঙালি হিন্দু পরিবারও বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও ঐতিহ্যবাহী রান্নার জন্য এখান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করেন। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও বাংলা ভাষা, খাবার ও সংস্কৃতির বন্ধন এখানে মানুষকে একত্র করে।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও এই বাজারের গুরুত্ব আলাদা। বাবা-মায়ের দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা তারা এখানে পায়। অনেক তরুণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকের কাছে হোয়াইটচ্যাপেল বাজার তাদের পারিবারিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি মাধ্যম।
তবে আধুনিক লন্ডনের পরিবর্তিত জীবনযাত্রার কারণে ঐতিহ্যবাহী খোলা বাজারগুলো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বড় সুপারমার্কেট, অনলাইন কেনাকাটা এবং নতুন ধরনের বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে এসব বাজারকে। তারপরও হোয়াইটচ্যাপেল বাজার তার বিশেষ আকর্ষণ ধরে রেখেছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাজা পণ্যের সহজলভ্যতা এবং পরিচিত সাংস্কৃতিক পরিবেশের কারণে।
হোয়াইটচ্যাপেল বাজারের গল্প তাই শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের গল্প নয়, এটি অভিবাসনের গল্প, সংগ্রামের গল্প এবং নতুন দেশে নিজের পরিচয় ধরে রাখার গল্প। বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এই বাজার প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয় মানুষ দেশ ছাড়লেও তার ভাষা, সংস্কৃতি, খাবার ও স্মৃতিকে কখনো ছেড়ে যায় না।
হোয়াইটচ্যাপেল বাজার তাই লন্ডনের মানচিত্রে শুধু একটি বাজার নয়; এটি প্রবাসী বাঙালির হৃদয়ে থাকা এক টুকরো বাংলাদেশ, যেখানে পণ্যের পাশাপাশি প্রতিদিন বিনিময় হয় মানুষের গল্প, ভালোবাসা এবং শেকড়ের টান।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category