প্রভাত বিনোদন : ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যুরহস্য নিয়ে আলোচনা থামেনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।
সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। এরই মধ্যে লন্ডনে বাঙালি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুর পর তাকে দেওয়া কথিত প্রলোভন ও হুমকির বিষয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন।
লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী বলেন, সালমানের মৃত্যুর পর মামলা নিয়ে আর না বাড়াবাড়ি করার বিনিময়ে তাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
নীলা চৌধুরী বলেন, ‘১৯৯৬ সালের নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর মাসে জাতীয় পার্টির তৎকালীন একজন মন্ত্রী, যিনি আজিজ মোহাম্মদের বন্ধু ছিলেন, আমার বাসায় এসেছিলেন। তার নাম বলতে চাই না। মনে হয় তিনি এখন আর বেঁচে নেই। ওই ব্যক্তির দেওয়া প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে নীলা চৌধুরী বলেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন— ভাবি আপনাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এসব নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনার বয়স হয়ে যাচ্ছে, এই টাকাগুলো খরচ করেন। আমি তাকে বলেছিলাম— ভাই, আমি ১০০ কোটি টাকা চাই না, আমার ছেলেটাকে এনে দেন।’
সালমানের মায়ের দাবি, তিনি তার ছেলের মৃত্যুর পর শুধু অর্থের প্রস্তাবই নয়, বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো প্রলোভন বা হুমকিই তাকে ছেলের মৃত্যুর সত্য উদ্ঘাটনের দাবি থেকে সরাতে পারেনি।
সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী ও মামলার অন্যতম আসামি সামিরার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন নীলা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সামিরা দোষী। ও খুনি। ওর বিচার চাই। খুনি না হলে ও পালাবে কেন?’
সামিরার শাস্তি চেয়ে তিনি বলেন, আমি শুনেছি সামিরা পালিয়ে ভারতের এলাহাবাদ অথবা হায়দরাবাদে গেছে। ভারত থেকে সালমান শাহর এক ভক্ত আমাকে জানিয়েছে— ‘সে নিশ্চিত হয়ে বলেছে সামিরা ভারতে পালিয়ে গেছে।’
তবে সামিরার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা দাবির স্বাধীন সত্যতা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়নি।
এদিকে অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়েও বক্তব্য দেন নীলা চৌধুরী। তার দাবি, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। সালমান তাকে নিজের বোনের মতো দেখতেন এবং সহযোগিতা করতেন।
নীলা চৌধুরী বলেন, সালমানের কোনো বোন ছিল না। তাই শাবনূরকে তিনি বোনের মতো স্নেহ করতেন। শাবনূর তার ছেলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং সালমান তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন বলেও দাবি করেন তিনি।