প্রভাত রিপোর্ট: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. তাজুল ইসলামকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শনিবার (১৬ মে) রাতে এ অভিযান চালানো হয়। এপিবিএন জানায়, শনিবার (১৬ মে) ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন (১৮) তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। বিদায় পর্ব শেষে ডিপার্চার এলাকায় অবস্থানকালে তাজুল ইসলামের দেওয়া কফি পান করেন আরাফাত। পরে অজ্ঞান হয়ে যান। পরে এয়ারপোর্ট (১৩) এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার ফাউজুল কবীর মঈনের নেতৃত্বে একটি দল দারুসসালাম এলাকার ‘হোটেল রয়েলে’ অভিযান চালিয়ে ৫৫টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ১০টি বিভিন্ন মডেলের এয়ারবাড হেডফোন, ১৫টি হাতঘড়ি, চার পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, দুটি চেতনানাশক পুরিয়া, নগদ বাংলাদেশি ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, সৌদি আরবের ৫৩ দশমিক ৫০ রিয়াল, তুরস্কের ১ লিরা এবং বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় রবিবার (১৭ মে) আরাফাত হোসেন বাদী হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিমানবন্দর থানায় তাজুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল জানান, আমরা বাস বা রেলস্টেশনে গিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করি। পরে চা, কফি বা সফট ড্রিংকের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাদের অজ্ঞান করে মালামাল হাতিয়ে নিই। নিজেদের সন্দেহমুক্ত রাখতে মাঝে মাঝে শারীরিকভাবে অক্ষম বা অসুস্থ ব্যক্তির অভিনয়ও করি।
আসামির দেওয়া তথ্যমতে, তিনি আরও চার-পাঁচ জন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি অজ্ঞান পার্টির গ্যাং গড়ে তুলেছেন এবং চুরি করা মালামাল মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে সংরক্ষণ করে রাখতেন।
এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস্) অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধ, চোরাচালান রোধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতোই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।