প্রভাত রিপোর্ট : লক্ষ্মীপুরের মঈনুদ্দিন। রিয়াদ থেকে ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন কয়েকমাস আগে। ছুটি শেষে আজ তার রিয়াদ যাওয়ার কথা। সেই অনুযায়ী ইউএস বাংলার টিকিটও নেন। সোমবার দুপুর আড়াইটায় তার ফ্লাইট ছিল। সে কারণে ১২টার সময় তিনি বিমানবন্দরের ভেতরে যান। পরে কাউন্টার থেকে জানানো হয় ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এরপর তিনি বাইরে চলে আসেন।
বিমানবন্দরের বহির্গমণ টার্মিনাল-১ এ তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি আগে থেকে জানানো হয়নি। এখন ফ্লাইট বাতিল করা হলো। কাউন্টার থেকে জানানো হয়, রিয়াদ বিমানবন্দর চালু হলে ওই টিকিটেই নিয়ে যাওয়া হবে। তার হাতে আর সাত দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে যেতে না পারলে বড় বিপদে পড়বেন তিনি।
মঈনুদ্দিন বলেন, আজ সোমবারের ফ্লাইটের কারণে গতকাল রবিবার তিনি ঢাকায় আসেন। এখন আর বাড়িতে যাওয়া হবে না, ঢাকায় কস্ট করে থাকতে হবে। মঈনুদ্দিনের মতো আরেক যাত্রী যশোরের সবুজ। সোমবার সকাল ৮টায় দুবাইয়ের ফ্লাইটে দাম্মাম যাওয়ার কথা। কিন্তু ভোরে কাউন্টারে দাঁড়ানোর পর ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বিপদে পড়েন তারা। তিনি বলেন, এখন কী করবো, কোথায় থাকবো কিছুই জানি না। সকালে ফ্লাইটের কারণে শনিবার তিনি যশোর থেকে ঢাকায় আসেন। ভিসার মেয়াদও কমে আসছে। এখন সবুজের চোখে মুখে অন্ধকার।
মঈনুদ্দিন কিংবা সবুজ শুধু নয়, সৌদির রিয়াদগামী হাজার হাজার যাত্রী পড়েছেন বিপাকে। হুতিদের হামলার কারণে বন্ধ রয়েছে রিয়াদ বিমানবন্দর। এ কারণে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাত্রীরা আগে থেকে কিছুই জানতে পারছে না। বিমানবন্দরে আসার পর তারা জানতে পারছেন ফ্লাইট বাতিল। এ কারণে তাদের পড়তে হচ্ছে সমস্যায়।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, আগে থেকে জানতে পারলে তারা আসতেন না। কিন্তু একবার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে আবার বাড়ি যাওয়া, এটা কেমন লাগে। আর কখন ফ্লাইট ছাড়বে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনোকিছু বলা হচ্ছে না। এ কারণে তাদের বিমানবন্দরে থাকতে হচ্ছে। হোটেলে থাকতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচও করতে হচ্ছে। তারা বলেন, এর পাশাপাশি অনেকের ছুটিও শেষ হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা কাজে যোগ দিতে না পারলে বড় রকমের ঝামেলার মধ্যে পড়তে হবে।
আসলাম নামের যাত্রী বলেন, দুদিন ধরে তিনি ঢাকায় আছেন। রবিবার তার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট বাতিলের কারণে তিনি যেতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, হুথিদের আক্রমণে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এতে করে সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে। আজ সোমবার পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার যাত্রী আটকা পড়েন। বর্তমানে তারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার ওপর বিধিনিষেধের কারণে ৫ হাজারের বেশি যাত্রী ও অর্ধশতাধিক ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেবিচকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার কারণে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট উভয়ই বিঘ্নিত হয়েছে। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের ৩টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৩টি নিয়ে মোট ১২টি সরাসরি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি, সালাম এয়ারের ৩টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৫টি নিয়ে মোট ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইট ৫১টি, যার মধ্যে ১২টি সরাসরি ও ৩৯টি ট্রানজিট। মোট ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ৫,৪১৮ জন।