প্রভাত রিপোর্ট: গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ পরিবারের চার সদস্যের সম্পদ বিবরণী জারির নোটিশ তাদের ঠিকানায় টানানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: আকতারুল ইসলাম বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শেখ সেলিমের পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে আগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় লোক মারফত তাদের ঠিকানায় নোটিশ টানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য প্রমাণ পায় অনুসন্ধান দল। এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করেছে সংস্থাটি।
এছাড়া, তার পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধেও আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। তাদের নামে-বেনামে আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিমের আয়ের চেয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার অতিরিক্ত সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে। ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম আয়ের চেয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ০৩৬ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ। শেখ ফজলে নাঈম আয়ের চেয়ে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ। তার মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া আয়ের চেয়ে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত সম্পদ প্রমান পেয়েছে কমিশন।
দুদক জানায় সংশ্লিষ্টদের নামে-বেনামে আরও সম্পদ উদঘাটনের নিমিত্ত তাদের প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। এদিকে, দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি দল এই অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেন। অনুসন্ধান টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার ও উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মদ অনি।