• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

সাহারা মরুভূমির তীব্র দাবদাহ আর পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: সাহারা মরুভূমির তীব্র দাবদাহ আর পানির অভাবে অন্তত ৪৯ জন যাত্রী তৃষ্ণায় বুক ফেটে মারা গেছেন। আফ্রিকার দেশ নাইজারের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকায় গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার পর এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নাইজার ও আলজেরিয়ার মধ্যকার প্রধান সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র আসামাকা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে মরুভূমির বুকে আটকা পড়েছিলেন তারা।
নাইজারের আগাদেজ প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিরা মালির একটি ধর্মীয় উৎসব শেষ করে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মরুভূমির অত্যন্ত প্রতিকূল ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে তাদের বহনকারী ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে। ওই অঞ্চলে তীব্র তাপমাত্রা এবং কাছাকাছি কোনো পানির উৎস না থাকায় যাত্রীরা চরম জীবনসংকটে পড়েন। গাড়িটি বিকল হওয়ার পর চালক, তার সহকারী এবং যাত্রীরা মিলে টানা কয়েক দিন ধরে তা মেরামতের চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে থাকা পানি শেষ হয়ে গেলে মরুভূমির তীব্র গরমে একে একে সবাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে অলৌকিকভাবে কেবল দুজন যাত্রী বেঁচে ফেরেন। তারা মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে আসামাকা সীমান্তে পৌঁছান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচল ট্রাকটির নিচে এবং এর আশপাশ থেকে ডজন ডজন নিথর দেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মরুভূমির ওই প্রত্যন্ত এলাকাতেই স্বজনহীন এই ভুক্তভোগীদের গণকবর দেওয়া হয়।
গভর্নর জানিয়েছেন, ট্রাকটি মালির তেলহান্দেক শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা নির্ধারিত রুট বা পথ থেকে অনেকটাই বিচ্যুত হয়ে পড়ে।
এদিকে, এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের দাফন শেষে ফেরার পথে উদ্ধারকারী দলটি আরও একটি বড় বিপর্যয় রুখে দিয়েছে। মরুভূমির অন্য একটি অংশে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে তিন দিন ধরে আটকে থাকা আরও একটি ট্রাকের সন্ধান পায় নাইজারের সেনা ও উদ্ধারকারীরা। মালির হারুবা শহর থেকে রওনা হওয়া ওই ট্রাকে ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়া সেসব যাত্রীদের মাঝে দ্রুত পানি বিতরণ করা হয় এবং তাদের গাড়িটি মেরামত করে নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়।
উল্লেখ্য, আফ্রিকার এই মরুভূমি অঞ্চলটি ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও সীমান্ত বাণিজ্যে নিয়োজিত তরুণদের অন্যতম প্রধান যাতায়াত পথ। এই ট্র্যাজেডি উন্নত জীবনের আশায় দুর্গম ও বিপজ্জনক পথ বেছে নেওয়া তরুণদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় গভর্নর।

সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category