• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
Headline
নীতা আম্বানীর পোশাকে ১৫ কোটির ফড়িং! তৈরিতে লেগেছে ১০ বছর হোমনায় যৌতুকের টাকার চাপ, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাগেরহাটে বিএনপির আনন্দ মিছিল পিরোজপুরকে মাদকমুক্ত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সর্বস্তরের সহযোগিতার আহ্বান নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোট নয়, ট্রাম্পের অনুরোধেও অনড় আইজেনকট যুদ্ধবিরতি শেষে রাশিয়ার হামলা, ইউক্রেনে নিহত ২৬ ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থাইল্যান্ডে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ, পর্যটকদের ভিসার মেয়াদ কমানোর দাবি মণিপুর সহিংসতায় বিজেপি সরকারের ব্যর্থতা: কংগ্রেস তিন দশক পর নিউইয়র্কে হামে শিশুর মৃত্যু, জরুরি অবস্থা জারি
স্বামীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

হোমনায় যৌতুকের টাকার চাপ, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

Reporter Name / ৪৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

মেহেদী হাসান, হোমনা : কুমিল্লার হোমনায় যৌতুকের দাবিতে চালানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তাহমিনা আক্তার (২৮) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী গা-ঢাকা দেওয়ায় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দরিচর গ্রামে স্বামীর বাড়িতে। নিহত তাহমিনা আক্তার একই উপজেলার নূড়ালাপুর গ্রামের মো. আবদুল বাতেন মিয়ার মেয়ে এবং দরিচর গ্রামের মো. সুমন মিয়ার স্ত্রী। তাদের সংসারে চার বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিকভাবে তাহমিনার সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই গৃহবধূর সচ্ছল বাপের বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতো স্বামী ও তার পরিবার। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাহমিনার ওপর শুরু হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পারিবারিক এসব বিরোধ মেটাতে এর আগে স্থানীয়ভাবে তিনবার সালিশ বৈঠকও হয়েছিল।
সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার তাহমিনার ভাইদের কাছে পুনরায় টাকা দাবি করেন সুমন। ভাই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গৃহবধূর ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। মানসিক চাপ সইতে না পেরে সোমবার রাতে তিনি বাধ্য হয়ে কেরির ট্যাবলেট (কীটনাশক) পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বামীর বাড়ির লোকজন রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু ঢাকায় না নিয়ে অজ্ঞাত কারণে তাকে এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সোমবার মধ্যরাতে স্বামীর বাড়ি থেকে তাহমিনার বাবার বাড়িতে আত্মহত্যার খবর জানানো হয়।
পরদিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে আসরের নামাজের পর বাবার বাড়ি নূড়ালাপুর গ্রামের বাড়িতে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। তবে এই জানাজায় স্বামীর বাড়ির পক্ষ থেকে মাত্র দু-একজন প্রতিবেশী অংশ নেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে। সুরতহাল প্রতিবেদনে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক অশান্তির জেরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category