• বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন
Headline
৩ যুগে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ পাথরঘাটার ১৯২ জেলে শাহজালালে দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর ৩ সদস্যের মৃত্যু, কারণ খতিয়ে দেখার কথা জানালেন মন্ত্রী এক্স-রে করতেই পেটের ভিতরে দেখা গেলো সোনার চেইন জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক বিচারপতি, সেনা কর্মকর্তাসহ ৬০৫ জন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, সাধারণ মানুষের কী হবে? দিনে গরম, রাতেও ঘুম নেই ভোগান্তির সঙ্গে বাড়ছে ব্যয় নতুন পে স্কেলে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে: ডা. জাহেদ উর রহমান ঢাকার রাস্তায় লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি চলতে দেয়া হবে না: ট্রাফিক প্রধান যেকোনও জোটে অংশগ্রহণে দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত: শামা ওবায়েদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের ৯ দাবি ও পরামর্শ

৩ যুগে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ পাথরঘাটার ১৯২ জেলে

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মো. মাহবুবুর রহমান,পাথরঘাটা : জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকার তাগিদে গত ৩ যুগ ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বরগুনার পাথরঘাটার ১৯২ জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বৈরী আবহাওয়া, ট্রলারডুবি ও গভীর সমুদ্রে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় নিখোঁজ এসব জেলের অনেকেরই আজও সন্ধান মেলেনি। স্বজনরা বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্যোগে ১৮৮ জেলে নিখোঁজ হন। এর মধ্যে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে নিখোঁজ হন ৯১ জন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট ‘এফবি বরকত’ ট্রলারডুবিতে পাঁচ জেলে নিখোঁজ হন। পরে একজনের মরদেহ উদ্ধার হলেও চারজন এখনো নিখোঁজ। এ চারজনসহ মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২ জনে।
নিখোঁজ জেলে ইউসুফ আলীর ছোট ভাই ইয়াকুব আলী বলেন, ‘ভাই দুই সন্তান রেখে সাগরে গিয়েছিল। আর ফেরেনি। জীবিত আছে নাকি মারা গেছে—এই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।’
জেলে ও সংশ্লিষ্টরা জানান, গভীর সমুদ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও রেডিও যোগাযোগ না থাকায় অনেক সময় সতর্কবার্তা জেলেদের কাছে সময়মতো পৌঁছায় না। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযানেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় দিক হারিয়ে ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে অনেক জেলে আটক হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। ২০২৩ সালের ঘূর্ণিঝড় মিধিলির সময় নিখোঁজ বরগুনার ১৭ জেলের সন্ধান প্রায় দুই বছর পর ভারতের একটি কারাগারে পাওয়া যায়।
নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের বড় সমস্যা মৃত্যু সনদ না পাওয়া। এতে সরকারি সহায়তা, উত্তরাধিকার ও জমিজমাসহ বিভিন্ন কাজে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় সরকারের কাছে ‘সেফটি সেল’ গঠনের দাবি জানানো হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, গভীর সমুদ্রে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ও দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা জরুরি।
বরগুনার জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তার বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের পাশে প্রশাসন থাকবে। মৃত্যু সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতেও আইন অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category