• বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
Headline
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভৌতিক-থ্রিলারে প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করবেন সাইফ-কিয়ারা আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে সালমান খানের আরবি চলচ্চিত্র অ্যাকশন থ্রিলার ‘৭ ডগস’ বাগেরহাটে কিশোরী ও নারীর স্বাস্থ্য, জলবায়ু সহনশীল উপকূল শীর্ষক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ইসলামে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিভাবনা নবী মুসার জননী যেভাবে আল্লাহর ওপর আস্থা রেখেছেন কোরআনে বর্ণিত ৬ নারীর জীবনীতে যে শিক্ষা রয়েছে একটি উচ্চতর নৈতিক নির্দেশনা এবং আচরণগত পথনির্দেশ করে সুরা মাউন এবার ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ‘নতুন ভূখণ্ড’দিাবি করল ইরান সন্তানদের নিয়ে অবশেষে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান

৪৬ হাজার কোটি টাকার রাজপ্রাসাদ লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেস

Reporter Name / ১২৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: লন্ডনের হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক রাজকীয় স্থাপনা, বাকিংহাম প্যালেস। এটি শুধু একটি প্রাসাদ নয়, এটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের এক জীবন্ত প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই প্রাসাদের দেয়াল প্রত্যক্ষ করেছে রাজপরিবারের নানা অধ্যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তন, যুদ্ধ, কূটনীতি এবং ইতিহাসের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত রাজপ্রাসাদগুলোর একটি বাকিংহাম প্যালেস ব্রিটিশ রাজপরিবারের সরকারি আবাস হিসেবে পরিচিত।
লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে অবস্থিত এই প্রাসাদ প্রতিবছর লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে। রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও এর রয়েছে বিশেষ ভূমিকা।
আজকের জাঁকজমকপূর্ণ বাকিংহাম প্যালেসের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৭০৩ সালে একটি ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে। ডিউক অব বাকিংহাম জন শেফিল্ড নিজের জন্য নির্মাণ করেছিলেন ‘বাকিংহাম হাউস’। পরে ১৭৬১ সালে রাজা তৃতীয় জর্জ ভবনটি কিনে নেন এবং রাজপরিবারের ব্যবহারের উপযোগী করে রূপান্তর করেন।
১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে আরোহণের পর বাকিংহাম প্যালেস ব্রিটিশ রাজাদের আনুষ্ঠানিক আবাসে পরিণত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে এটি বর্তমান রূপ লাভ করে।

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

বাকিংহাম প্যালেসের গুরুত্ব শুধু এর স্থাপত্যের জাঁকজমক বা রাজকীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উত্থান, দুই বিশ্বযুদ্ধ, উপনিবেশগুলোর স্বাধীনতা এবং আধুনিক সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের বিকাশ—সবকিছুরই নীরব সাক্ষী এই প্রাসাদ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর একাধিক বোমা হামলায় প্রাসাদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাজপরিবার সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখে। সেই সময়ের ঘটনাগুলো ব্রিটিশ জনগণের কাছে সাহস ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে ওঠে।

প্রাসাদের ভেতরে যেন এক ছোট্ট নগরী

বিশাল এই প্রাসাদের আয়তন প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার বর্গফুট। এর ভেতরে রয়েছে ৭৭৫টি কক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে ১৯টি স্টেট রুম, ৫২টি রাজপরিবার ও অতিথিদের শয়নকক্ষ, ১৮৮টি কর্মচারী কক্ষ, ৯২টি অফিস এবং ৭৮টি বাথরুম। তবে বাকিংহাম প্যালেস শুধু থাকার জায়গা নয়। এর ভেতরে রয়েছে ডাকঘর, চিকিৎসাকেন্দ্র, সুইমিং পুল, সিনেমা হল এবং বিভিন্ন কারিগরি কর্মশালা। এ কারণে অনেকের মতে, এটি শুধু একটি ভবন নয়; বরং নিজেই যেন একটি ছোট্ট নগরী।

সবুজের রাজ্য বাকিংহাম গার্ডেন

প্রাসাদের অন্যতম আকর্ষণ এর বিশাল বাগান। প্রায় ৪০ একরের বেশি এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা বাকিংহাম প্যালেস গার্ডেন লন্ডনের বৃহত্তম ব্যক্তিগত বাগান হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে একটি হ্রদ, টেনিস কোর্ট, শতাধিক প্রজাতির গাছপালা এবং বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর। প্রতিবছর রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী গার্ডেন পার্টিগুলো এই বাগানেই অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজার হাজার আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নেন।

অর্থের হিসাবে অমূল্য এক ঐতিহ্য

বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হলেও বাকিংহাম প্যালেসের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন। বিভিন্ন সময় প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এর সম্ভাব্য মূল্য কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ কয়েক দশ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই প্রাসাদের প্রকৃত মূল্য অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। কারণ এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি ব্রিটিশ রাষ্ট্রীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রাজতন্ত্রের ধারাবাহিকতার এক অনন্য প্রতীক।

আধুনিক যুগেও অটুট গুরুত্ব

বর্তমান যুগে রাজতন্ত্রের রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত হলেও বাকিংহাম প্যালেসের গুরুত্ব কমেনি। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের অভ্যর্থনা, রাষ্ট্রীয় ভোজ, জাতীয় উদযাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার কেন্দ্র হিসেবে এটি এখনো ব্রিটেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
বাকিংহাম প্যালেস তাই শুধু রাজা-রানির বাসভবন নয়। এটি এমন এক জীবন্ত ইতিহাস, যার প্রতিটি দেয়াল, করিডোর এবং কক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত শত বছরের গল্প, যেখানে অতীত, বর্তমান ও রাজতন্ত্রের ঐতিহ্য একসঙ্গে বসবাস করে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category