• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিংবডি নির্বাচন স্থগিত

নিজের অনুসারীদের নিয়ে একটি ‘সাজানো নির্বাচন’ আয়োজনের চক্রান্ত করছিলেন অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা

Reporter Name / ১৫০ Time View
Update : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
ছবি সংগৃহীত

প্রভাত রিপোর্ট: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি নির্বাচন ২০২৬ স্থগিত ঘোষণা করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শনিবার (২৫ জুলাই) নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
এদিকে নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অনুসারীদের নিয়ে একটি ‘সাজানো নির্বাচন’ আয়োজনের চক্রান্ত করছিলেন। অধ্যক্ষ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একাধিক মামলার আসামি।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, তিনি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পকেট কমিটিতে রূপান্তরের চেষ্টা করছিলেন, যাতে তার প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বৈধতা বজায় থাকে।
অনেক অভিভাবক গভর্নিং বডি নির্বাচনে পার্থী হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রার্থী হওয়ার আগেই অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান তার নিজের আওয়ামী লীগপন্থী স্বজনদের নির্বাচনে প্রার্থী করছেন।
এছাড়া বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি ও দায়িত্বশীলদের নাম ভাঙিয়ে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় আন্দোলনকারীরা অধ্যক্ষের দ্রুত পদত্যাগ ও শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ শনিবার সকালে স্কুলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা।
এ সময় ‘চেয়ার’ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহান খান অভিযোগ করে বলেন, ‘অধ্যক্ষ চক্রান্ত করে এই নির্বাচন স্থগিত করিয়েছেন। তিনি জানেন নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নিলে তার অনিয়ম, মানি রসিদ ছাড়া অর্থ লেনদেন ও লুটপাট বন্ধ হয়ে যাবে। সেই ভয়েই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন পণ্ড করেছেন।’
একাধিক প্রার্থীরা দাবি করেন, নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং অভিভাবকরা প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারাও অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে দ্রুত নতুন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category