• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন
Headline
বাংলাদেশ সফর শেষ করে ঢাকা ছেড়েছেন ভারতের ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ভালোবাসা ও সঠিক শিক্ষায় গড়ে উঠুক নতুন প্রজন্ম: সুলতানা জেসমিন জুঁই এমপি এসএসসিতে সামসুল হক খান অ্যান্ড স্কুল কলেজের নজরকাড়া সাফল্য অব্যাহত মেঘনা ব্যাংক সিকিউরিটিজ-এর ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত চকরিয়া গ্রামার স্কুলে এসএসসিতে সাফল্যের ঝলক, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন কচুয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা পরিষদের অনুদান বিতরণ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ দিল পেন্টাগন রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী নারীর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য কেন ধ্বংস করে দিতে চায় ইউক্রেন ইতিহাসের উষ্ণতম জুন-জুলাই পেরোল ইউরোপ, আরও বিপদ আসছে নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের ঘোষণা দিলেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ওকাসিও

হোয়াইট হাউস বলরুমের নির্মাণকাজ আটকে দিলেন ওয়াশিংটনের আপিল আদালত

Reporter Name / ৯ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাঙ্ক্ষিত বলরুমের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য দেওয়া একটি আদেশ বহাল রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালত। শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি আপিল আদালত এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের পথে গড়াচ্ছে।
ওয়াশিংটন ডিসির কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট মামলাটি বিবেচনা করার সময় বলরুমের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আদালত নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়ে বলেছেন, হোয়াইট হাউসে এত বড় ধরনের সংস্কার করতে হলে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন।
ট্রাম্পকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সময় দিতে আপিল আদালত নিজেদের সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রেখেছেন। আদালতের তিন বিচারপতির মধ্যে দুজন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার পক্ষে অবস্থান জানান এবং অপরজন বিরোধিতা করেন। ২–১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেওয়া এই রায় ঘোষণার পর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি রায়টিকে ‘ভয়াবহ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
রায়ের পক্ষে থাকা দুই বিচারপতিকে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টরা নিয়োগ দিয়েছিলেন। আর রায়ের বিরোধিতা করা বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি দ্রুত এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।
শুক্রবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো, যখন নির্মাণকাজের বড় একটি অংশ শেষ হয়ে গেছে এবং এর জন্য অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের জাতীয় নিরাপত্তাজনিত হুমকি। একই সঙ্গে এটি জাতীয়ভাবে লজ্জাজনক ঘটনা।’
ট্রাম্প শুরুতে বলেছিলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বড় আয়োজন করতে হোয়াইট হাউসে এই বলরুম নির্মাণ করা দরকার। তবে পরে তিনি বারবার বলেছেন, এর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ একটি সামরিক বাঙ্কার ও আরও কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে।
এর আগে ডিস্ট্রিক্ট আদালতের প্রাথমিক আদেশে, সীমিত পরিসরে কিছু নির্দিষ্ট স্থাপনার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ স্থাপনাও ছিল। শুক্রবার আপিল আদালতের বিচারপতিরা তাঁদের রায়ে লিখেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বলরুমটি নির্মাণ করা ভালো হবে কি না, সে বিষয়ে নীতিগত কোনো প্রশ্নের সম্পর্ক নেই। এমনকি এই রায়ের অর্থও এই নয়, শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বলরুমটি নির্মাণ করতে পারবে না।’
বিচারপতিরা আরও বলেন, ‘এর অর্থ হলো, ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দ্রুতগতিতে চলা এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে বিবাদীরা বলরুম নির্মাণ করতে পারবেন না। আর নির্মাণ করতে হলে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তাঁদের কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।’
ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করে আসছেন, হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় ভোজের মতো বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ কারণেই তিনি একক সিদ্ধান্তে বিশাল এই বলরুম নির্মাণের নির্দেশ দেন। গত বছর প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। তখন হঠাৎ করে হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ইস্ট উইং পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা গেছে, ভবনের নিচে থাকা অংশে বড় ধরনের নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে কিছু কংক্রিটের দেয়াল মাটির ওপরও উঠে এসেছে।
ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, বলরুম নির্মাণের পুরো খরচ বেসরকারি অর্থায়নে হবে। তবে জুন মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রকল্পে করদাতাদের দেওয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থও খরচ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট খরচ ৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
শুরুতে হোয়াইট হাউস বলেছিল, এ প্রকল্পে ২০ কোটি ডলার খরচ হবে। কিন্তু পরে খুব দ্রুত সেই হিসাব দ্বিগুণ করে ৪০ কোটি ডলার করা হয়।
২০২৯ সালে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ওয়াশিংটনে নিজের ছাপ রেখে যেতে ট্রাম্প যেসব বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, বলরুমটি তারই একটি। এর মধ্যে লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলসহ অন্যান্য পার্ক সংস্কার করা এবং একটি বিশাল তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে। এসব প্রকল্পের কয়েকটি এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে বলরুম নির্মাণের বিষয়টিই প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category