প্রভাত বিনোদন : গানে গানে যার সঙ্গে ভারতের আসামের মানুষের আত্মিক সম্পর্ক, প্রয়াণের পরও তার স্মৃতি ধরে রাখতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন এক আসামিয়া নারী। প্রয়াত গায়ক জুবিন গার্গের জনপ্রিয় গান ও স্মৃতিকে ২৫ ফুট দীর্ঘ গামোচায় বুনেছেন অসমের বাসিন্দা দলিমি লাহন গগৈ।
দলিমির তৈরি এই বিশেষ গামোচায় জায়গা করে নিয়েছে জুবিন গার্গের নয়টি জনপ্রিয় গানের পঙ্ক্তি। পাশাপাশি রয়েছে তাকে ঘিরে থাকা নয়টি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি ও বিভিন্ন নকশা। গানের পঙ্ক্তি ও কথাগুলো ফুলের নকশার সঙ্গে মিলিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ফলে পুরো গামোচাটিই হয়ে উঠেছে জুবিনের স্মৃতিতে আঁকা এক দীর্ঘ চিত্রপট।
জানা গেছে, জুবিন গার্গের প্রয়াণের প্রায় এক মাস পর এই কাজ শুরু করেন দলিমি। নিজের তাতে টানা পাঁচ মাস পরিশ্রম করে তৈরি করেন ২৫ ফুট দীর্ঘ এই স্মারক। প্রিয় শিল্পীর গান ও সৃষ্টিকে শুধু স্মৃতিতে নয়, আসামের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের মধ্যেও ধরে রাখাই ছিল তার লক্ষ্য।
আসামে গামোচা কেবল একটি বস্ত্র নয়। রাজ্যটির সংস্কৃতি, সম্মান, আত্মপরিচয় ও আতিথেয়তার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র। সেই গামোচার ওপর জুবিনের গান বুনে দলিমি যেন আসামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্রোত-তাঁত ও সংগীতকে একসূত্রে গেঁথেছেন।
জুবিন গার্গের কণ্ঠে আসামিয়া গান পেয়েছিল আলাদা এক আবেগ ও পরিচয়। প্রেম, প্রকৃতি, মানুষের জীবন, মাটি ও শিকড়ের টান-নানা অনুভূতি তার গানে বারবার উঠে এসেছে। তাই তার প্রয়াণের পরও তার গান অসমের মানুষের স্মৃতি ও আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
সেই ভালোবাসা ও আবেগই এবার ধরা পড়েছে ২৫ ফুটের গামোচায়। একটি একটি করে অক্ষর, গানের পঙ্ক্তি ও নকশা বুনতে দীর্ঘ সময়, ধৈর্য ও নিখুঁত হাতের কাজ করতে হয়েছে দলিমিকে। তাই দলিমির এই সৃষ্টি নিছক একটি তাঁতবস্ত্র নয়। এটি জুবিন গার্গের প্রতি এক আসামিয়া নারীর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ। একই সঙ্গে অসমের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের মাধ্যমে প্রিয় শিল্পীর স্মৃতিকে ধরে রাখার এক অনন্য প্রয়াস।