• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
Headline
“দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ বহুগুণে বেড়ে যাবে” নরওয়েতে ইতিহাসের মাঝে থাকার সুযোগ শিবচরে নারী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: আসামি গ্রেফতার ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে দীপিকা পাড়ুকোনের সরে যাওয়া নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন পরিচালক ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান’ জিতলেন মিসবাহ আরশাদ ‘নায়করাজ’ রাজ্জাককে নিয়ে শাকিব খানের আবেগঘন বার্তা লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহর নীলা চৌধুরী বললেন, ১০০ কোটির প্রস্তাব এসেছিল গাড়ি আছে, চালক আছেন; রাস্তায় যাত্রীও আছে তবে সিএনজি পাম্পে গ্যাস নেই জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন

চোখের জলে স্বামীকে শেষ বিদায় জানালেন দীপু মনি, ফিরলেন কারাগারে

Reporter Name / ৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পাশেই তার মা খায়রন নেছার কবর। এ সময় প্যারোলে মুক্তি পাওয়া দীপু মনি কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মেয়ে দ্বীপান্বিতা নেওয়াজ কবরে মাটি ছড়িয়ে দেন। দাফনের পর মোনাজাতে অংশ নেন দীপু মনিসহ উপস্থিত সবাই। বনানী গোরস্তান মসজিদের ইমাম মাওলানা ওমর ফারুক মোনাজাত পরিচালনা করেন।
স্বামীকে দাফনের পর বনানী কবরস্থানে নিজের বাবা এম এ ওয়াদুদের কবর জিয়ারত করেন দীপু মনি। ওয়াদুদ ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। কবর জিয়ারত শেষে বৃষ্টির মধ্যেই দীপু মনিকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। সন্ধ্যা ৬টায় তার প্যারোলের মেয়াদ শেষ হবে। তার মধ্যেই তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি চব্বিশের আন্দোলনের পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে আটক আছেন। স্বামীর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে তাকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকালে প্যারোলে মুক্তি পান দীপু মনি। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে তাকে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর পুলিশি পাহারায় ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সকাল সোয়া ৮টায় তিনি কলাবাগানের বাসায় পৌঁছান। পুলিশকে ওই বাড়ি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। ওই বাড়িতে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ।
বেলা সোয়া ১২টার পর তৌফীক নাওয়াজের মরদেহ নিয়ে ফ্রিজার ভ্যান রওয়ানা হয় গুলশানের আজাদ মসজিদের দিকে। এর পরপরই দীপু মনিকে প্রিজন ভ্যানে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ জোহর আজাদ মসজিদে যখন জানাজার নামাজ চলছিল, দীপু মনি বাইরে প্রিজন ভ্যানে ছিলেন। জানাজা শেষে ভ্যান থেকে নেমে শেষবারের মতো স্বামীকে দেখেন তিনি। এ সময় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বেলা ২টার দিকে দীপু মনিকে আবার প্রিজন ভ্যানে করে বনানী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দাফন শেষে সেই ভ্যান তাকে নিয়ে রওনা হয় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের উদ্দেশ্যে।কারাগার থেকে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জীবনসঙ্গী সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টায় মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় আসেন। এরপর ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা স্বামীর মরদেহ দেখে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ বিদায় জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে মরদেহ গোসল ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে গুলশান আজাদ মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, লিভার ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। জীবনের শেষ সময়গুলোতে তাকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হতো। কিছুদিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ব্যারিস্টার নেওয়াজকে কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার হন ডা. দীপু মনি। বর্তমানে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি। গত মে মাসেও অসুস্থ স্বামীর পাশে থাকার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন তিনি।
ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্যিক বিরোধ ও মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ছিলেন এবং এর প্রতিষ্ঠালগ্নে ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আইন পেশার পাশাপাশি তার ক্লাসিক্যাল সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল এবং তিনি একজন ভালো বংশীবাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি বাউল সংগীত ও সংস্কৃতির ওপর লেখালেখিও করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category