• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
Headline
“দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ বহুগুণে বেড়ে যাবে” নরওয়েতে ইতিহাসের মাঝে থাকার সুযোগ শিবচরে নারী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: আসামি গ্রেফতার ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে দীপিকা পাড়ুকোনের সরে যাওয়া নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন পরিচালক ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান’ জিতলেন মিসবাহ আরশাদ ‘নায়করাজ’ রাজ্জাককে নিয়ে শাকিব খানের আবেগঘন বার্তা লন্ডনে সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহর নীলা চৌধুরী বললেন, ১০০ কোটির প্রস্তাব এসেছিল গাড়ি আছে, চালক আছেন; রাস্তায় যাত্রীও আছে তবে সিএনজি পাম্পে গ্যাস নেই জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন

প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক তথ্যের অভাব রয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে জরিপ দরকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ও প্রতিবন্ধিতার ধরন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, সব ধরনের প্রতিবন্ধিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পর্যায়ে একটি বড় আকারের জরিপ করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিবন্ধী মানুষের প্রকৃত সংখ্যা কত, সংখ্যা বাড়ছে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিসরে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে জরিপ হয়েছে। তবে সব ধরনের প্রতিবন্ধিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বশীল বড় জরিপ নেই। তিনি বলেন, জাতীয়ভাবে এটা বলার মতো কোনো এভিডেন্স আমাদের কাছে নেই যে প্রতিবন্ধিতা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন অনেকটা অদৃশ্য জনগোষ্ঠী হিসেবে ছিল। চলাফেরার সুযোগ, হুইলচেয়ার ও প্রবেশগম্য পরিবেশের অভাবে অনেক প্রতিবন্ধী শিশু ও তরুণ ধীরে ধীরে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সচেতনতা বাড়া এবং বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত হওয়ার কারণে এখন আগের তুলনায় প্রতিবন্ধী মানুষকে সমাজে বেশি দেখা যাচ্ছে। এ কারণে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বলে ধারণা তৈরি হতে পারে। তবে এর পক্ষে জাতীয় পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।
ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধিতাকে কোনো চ্যারিটেবল বিষয় হিসেবে দেখা হবে না। স্বাস্থ্য কিংবা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একক বিষয় হিসেবেও এটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে না। অন্য সব নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মকৌশলের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, রেলওয়ের সব শ্রেণিতে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেলেও একই হারে ছাড় রয়েছে। নতুন স্টেশনগুলোতে প্রতিবন্ধীবান্ধব স্থাপনা তৈরি করা হবে।
প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে শুধু র‌্যাম্পের ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয় জানিয়ে তিনি বলেন, টিকিটিং থেকে শুরু করে বাহনে ওঠা, যাতায়াত এবং টয়লেট ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়াটি প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষায়িত শিক্ষার পাশাপাশি মূলধারার বিদ্যালয়গুলোতেও প্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলোকে প্রবেশগম্য করার পাশাপাশি ব্রেইল ও সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও শনাক্তকরণে একটি প্রকল্প এরই মধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ২২টি জেলার ২২টি উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশু ও মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন সহজ করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সাধারণ নাগরিক হিসেবে একজন মানুষ যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, প্রতিবন্ধী মানুষও যেন সেসব সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রতিবন্ধী মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, এই সুযোগ-সুবিধাগুলো একজন প্রতিবন্ধী যেন পান, সেই বিষয়টায় আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখভাল করছি। প্রতিবন্ধীদের জন্য ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন মানুষ যতটা মাটিতে থাকে, তার চেয়ে বেশি থাকে সার্ভারে। তাই ডিজিটাল সেবার সব ধরনের অ্যাক্সেস যেন প্রতিবন্ধী মানুষ পান, সে বিষয়েও কাজ চলছে। তিনি বলেন, আমরা সেই জায়গা থেকে উঠে এসে প্রতিবন্ধীদের সেই জায়গাতে নিতে চাই যে, তারা নিজেরাও মনে করবেন যে আমরা দেশের একজন অত্যন্ত যোগ্য এবং সম্মানিত নাগরিক।
প্রতিবন্ধী মানুষের বিশেষ সক্ষমতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধীদের শুধু ভাতা বা সহযোগিতা দেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন কিছু করছি না যেটাকে আবার চ্যারিটি হিসেবে ধরা যেতে পারে। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি যেটা তারা পাওয়ার যোগ্য, তারা পেতে পারেন নাগরিক হিসেবে, সেটাকে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছি।
সভায় প্রায় ১৪টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এরই মধ্যে বিভিন্ন কাজ এগিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত আন্তরিক এবং নিবিড়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, রেল পথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীনসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category