হাসানাত আকাশ, শিবচর: মাদারীপুরের শিবচরে ঝোপের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকফুল, রুপার গলার চেইন, জুতা এবং পোড়ানো অবস্থায় একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ফারুক নিহত শাম্পা খাতুনের এক বছর বয়সী শিশুপুত্র আবিরকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। তবে শিশুটির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ উদ্ধারে অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার খানবাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার পাশে বিল্লাল শিকদারগংয়ের মালিকানাধীন জমির ঝোপের কাছে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় শিবচর থানা পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে।
পরবর্তীতে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়। তার নাম শাম্পা খাতুন (২৮)। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের বড় মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, পিতা ছিদ্দিক হাওলাদারের সঙ্গে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক শাম্পা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আবির নামে এক বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শাম্পার বাবা ছামরুল ইসলাম শিবচর থানায় উপস্থিত হন। তিনি পুলিশকে জানান, গত ১৯ আগস্ট বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার মেয়ে শাম্পা খাতুনের মরদেহ শিবচর থানাধীন এলাকায় পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে শাম্পার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানতে পারেন।
এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ২০২৬ নিহত শাম্পা খাতুনের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ এবং র্যাব-৮, মাদারীপুরের সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন। পাশাপাশি শিবচর ও রাজৈর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। তার পরিচয় ফারুক, পিতা—রতন মোল্লা, স্থায়ী ঠিকানা—জয়সোমা, পোস্ট—তেরখাদা, থানা—তেরখাদা, জেলা—খুলনা; বর্তমান ঠিকানা—বাখরেরকান্দি, মাদবরচর ইউনিয়ন, শিবচর, মাদারীপুর। পরে ফারুকের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে নিহত শাম্পা খাতুনের ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন, রুপার গলার চেইন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাড়ির চুলার কাছ থেকে পোড়ানো অবস্থায় শাম্পা খাতুনের একটি ওড়না উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক শাম্পা খাতুনকে হত্যার পাশাপাশি তার এক বছর বয়সী শিশুপুত্র আবিরকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। তবে শিশুটির মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি ও প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে মামলার আসামিকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। অপরাধী শনাক্ত, গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।