প্রভাত অর্থনীতি: সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে পৌঁছেছে চীনা জাহাজ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় গত দুই মাস দেশে ক্রুড অয়েলবাহী কোনো জাহাজ আসতে পারেনি। অবশেষে বিকল্প পথে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে গত ২১ এপ্রিল রওনা দেয় চীনা জাহাজ নিনেমিয়া। দীর্ঘ ১৫ দিনের যাত্রা শেষে আজ বুধবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া অ্যাঙ্করেজে নোঙর করে।
এর আগেই জাহাজটি থেকে তেল খালাসের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল ছয়টি লাইটার জাহাজ। প্রতিটি জাহাজ একেক ট্রিপে প্রায় ৪ হাজার টন পর্যন্ত ক্রুড অয়েল পরিবহন করতে পারবে। সে হিসাবে দিনে অন্তত ২৪ হাজার টন ক্রুড খালাস করা সম্ভব হবে।
বহির্নোঙর থেকে লাইটার জাহাজে করে ক্রুড আনার পর প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় উৎপাদনে যাচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি।
সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর এবং সেখান থেকে পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি পর্যন্ত ক্রুড পরিবহনের পুরো দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)।
জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, “সকাল ১১টার দিকে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সমুদ্র উত্তাল থাকায় প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা দেরিতে জাহাজটি কুতুবদিয়া অ্যাঙ্করেজে নোঙর করে। বুধবার দুপুর থেকেই ছয়টি লাইটার জাহাজ দিয়ে কার্গো খালাস শুরু হয়। প্রতিটি লাইটার ৪ হাজার টন করে ক্রুড পরিবহন করতে পারলেও সমুদ্র উত্তাল থাকায় নিরাপত্তার কারণে কিছুটা কম তেল পরিবহন করতে হতে পারে।”তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এবার প্রতি টন জ্বালানি পরিবহনে আগের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি খরচ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তেল পরিবহনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতি টনে ৫০-৬০ ডলার খরচ হতো, এবার সেখানে খরচ পড়ছে ১৪২ ডলার।”
এই মাসে আরও দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পারে বলেও জানান কমোডর মালেক। তিনি বলেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আগামী ১০ তারিখে ১ লাখ টন ক্রুড লোড করার একটি সূচি রয়েছে। সেটি ঠিক সময়ে সম্পন্ন হলে ২১ মের মধ্যে আরেকটি চালান দেশে পৌঁছাবে। এছাড়া মাসের শেষ দিকে সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ টন ক্রুড আনার জন্য বিপিসির সঙ্গে আমরা কাজ করছি।”
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২৭ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এসইএস ব্রেভ’ নামের একটি জাহাজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন। এর আগে গত সোমবার ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।