• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে তিন বছর ধরে বর্ষায় চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন শাহিন গাজী, এবারও দিলেন ৭ শতাধিক রিয়েলমির নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন সি১০০এক্সে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ও রিভার্স চার্জিং সুবিধা নাজিরপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তৃণমূল নারীদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সিড মানি দেওয়া হচ্ছে : মন্ত্রী প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়নি : ববি হাজ্জাজ সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও কাজে দেখি ‘সবার পরে বাংলাদেশ : আনু মুহাম্মদ আমি মাঝেমধ্যেই চলে আসবো, কেউ জানতে পারবেন না: আফরোজা খানম হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলেই মিলবে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার উগ্রবাদ-সহিংসতা মোকাবিলায় গবেষণা কাজে লাগানোর আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু ১৬ ডিসেম্বর: বিমানমন্ত্রী

গুমের অন্ধকার গল্পে ‘জোয়ার’ এলো অন্তর্জালে

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন: সীমাবদ্ধতার ভেতরেও ইচ্ছা, নিষ্ঠা আর নিখাদ অনুভূতি দিয়ে যে বড় গল্প বলা যায়, তারই উদাহরণ তরুণ নির্মাতা আসাদুল্লাহিল গালিবের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘জোয়ার’। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ৩১ আগস্ট ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে।
‘জোয়ার’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন লেখক ও সাংবাদিককে ঘিরে। লেখনীর মাধ্যমে তিনি সরকারের অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন। তার সেই প্রতিবাদী কণ্ঠই একসময় হয়ে ওঠে তার জন্য বিপদের কারণ। একপর্যায়ে তাকে গুম করা হয়। পরে হত্যা করে তার মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার মধ্য দিয়ে সিনেমাটিতে উঠে এসেছে গুম হয়ে যাওয়া মানুষদের নির্মম পরিণতি এবং তাদের স্বজনদের অফুরান অপেক্ষার গল্প। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গুমের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটকে ধারণ করেছে ‘জোয়ার’।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিষয়ে নির্মাতা আসাদুল্লাহিল গালিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘‘জোয়ার’ আমার একেবারেই শুরুর দিকের কাজ। মূলত শেখার উদ্দেশ্যেই আমরা একটি টিম গড়ে সিনেমাটি নির্মাণ করি। গল্পটির পেছনে রয়েছে ৫ আগস্টের আগের বাংলাদেশের বাস্তবতা। তখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে মানুষের ওপর জুলুম, হত্যা কিংবা নিখোঁজের ঘটনা আমাদের আশপাশেই ঘটত, কিন্তু আমরা অনেক সময় নীরব থাকতাম, কিছু বলার সুযোগও ছিল না। সেই বাস্তবতাকেই সীমিত পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’
পরিচালকের ভাষ্যে, ‘সিনেমায় এক জেলের কাছে একটি লাশ ভেসে আসে। নানা সংকটের মধ্যেও তারা লাশটি তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভয়ের কারণে তারা পুলিশের কাছে যায় না। শেষ পর্যন্ত জোয়ারে লাশটি ভেসে গেলে তারা আবার নদীতে নেমে সেটি খুঁজতে থাকে। এই অপেক্ষার মধ্য দিয়ে গত ১৫ বছরে নিখোঁজ ও হত্যার শিকার হয়ে আর ফিরে না আসা মানুষগুলোর পরিবারের অপেক্ষার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে দূরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের বাস্তবতাও তুলে ধরতে চেয়েছি।’
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’ দেড় হাজারের বেশি গুমের সত্যতা নিশ্চিত করে। নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাই সিনেমাটির গল্পে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। গুম, নিখোঁজ স্বজন আর অপেক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত ‘জোয়ার’ ইতোমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনে। সর্বশেষ ৬ষ্ঠ বগুড়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এ ‘সেরা জাতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার’ অর্জন করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category