প্রভাত রিপোর্ট: রপ্তানি কমে যাওয়া ও আমদানি বেড়ে যাওয়ার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। মূলত জ্বালানি পণ্য ও সারের অতিরিক্ত আমদানির ফলে এ সময়ে আমদানি বেড়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ব্যালেন্স অভ পেমেন্টস (বিওপি) প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়। এতে দেখা যায়, জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.০৯ বিলিয়ন ডলারে। আগের অর্থবছরের একই মাসে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১.৫ বিলিয়ন ডলার।
বিওপির তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে আমদানি বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ। অন্যদিকে রপ্তানি কমেছে ১.৯ শতাংশ। অর্থাৎ আমদানির চেয়ে রপ্তানি কম। রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গেছে। প্রথম মাসে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করা হয়েছে ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার—আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৫০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়েছে ৮৩ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া জুলাইয়ে সার আমদানির ব্যয়ও ৫০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ১৮৭ মিলিয়ন ডলারের সার আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২৫ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এক মাসের বিওপির তথ্য দিয়ে আসলে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু বলা যায় না। ‘তবে আমদানি বেড়ে যাওয়া ও রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে, যা আগের অর্থবছরে আরো কম ছিল।’
অর্থবছরের প্রথম মাসে দেশের চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬৪ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই মাসে ছিল ১২৫ মিলিয়ন ডলার।
মূলত বাণিজ্য ঘাটতি ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ার কারণে রেমিট্যান্স বেশি আসার পরেও উদ্বৃত্তের পরিমাণ আগের অর্থবছরের থেকে কমেছে। তবে রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহের কারণেই চলতি হিসাব এখনো উদ্বৃত্তের ঘরে রয়েছে। জুলাই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৫.৪ শতাংশ।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ার কারণেই চলতি হিসাব ইতিবাচক (অবস্থানে) রয়েছে। ‘বড় রকমের বাণিজ্য ঘাটতির কারণে চলতি হিসাব ঘাটতির মুখে পড়তে পারত। তবে সেটা রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমিয়েছে,’ বলেন তিনি।
জুলাইয়ে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই মাসে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৪৬ মিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের জুন পর্যন্ত আর্থিক হিসাব উদ্বৃত্তের ঘরেই ছিল।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অভ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, আর্থিক হিসাবে ঘাটতির প্রধান কারণ হলো আমানত, অর্থ ও ব্যাংকিং-সংশ্লিষ্ট প্রবাহে (ডিএমবিএস ও এনবিডিসিএস) ৫৩৬ মিলিয়ন ডলারের নিট ঘাটতি। ‘অর্থাৎ দেশ থেকে বাইরের ব্যাংকে অর্থ পরিশোধ বেড়েছে, অর্থাৎ আউটফ্লো বেড়েছে,’ বলেন তিনি। গত অর্থবছরের জুলাইয়ে এই খাতে ৫৩ মিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, নেতিবাচক আর্থিক হিসাবের কারণেই সার্বিক ব্যালেন্স অব পেমেন্টস ঘাটতির মুখে পড়েছে।