প্রভাত রিপোর্ট : পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষী, কোনো গোয়েন্দা সংস্থা চিন্তা করেনি আওয়ামী লীগ এভাবে পালিয়ে বিদায় নেবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা একটা ঘটনা ঘটিয়েছিল, কিন্তু বিশাল রক্ষী বাহিনী টুঁ-শব্দ পর্যন্ত করেনি। আমার আল্লাহ যা চান তাই হবে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে হামদ, নাতে রাসুল, কেরাত ও রাসুল (সা.)- এর জীবনীর ওপর রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। আলোচকরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, আমি একটা কথা আপনাদের বলতে চাই— ৭৫ সালে যে ঘটনাটা ঘটেছিল, মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা একটা বিশাল ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। সেদিন কিন্তু বিশাল রক্ষীবাহিনী শেখ মুজিবকে, তার পরিবারকে এবং আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই রক্ষীবাহিনী কিন্তু টুঁ-শব্দও করেনি। তারা কিন্তু টুঁ-শব্দ করেনি। আল্লাহ যা চান তাই হয়। আল্লাহর প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে।
মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ মহানবীকে দূত ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমরা বড় সৌভাগ্যবান উম্মত। তার জীবনের প্রতিটি দিক ও অধ্যায় আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলমানদের নয়, শিক্ষকদের জন্যও আদর্শ। আপনার কাছে যদি একজন অমুসলিম ব্যক্তি নিরাপদ থাকে তাহলে মনে করতে হবে আপনি রাসুলের খাঁটি উম্মত। আর আপনার কাছে যদি একজন অমুসলিম নিরাপদ না থাকে তাহলে মনে করবেন যে আপনি রাসুলের উম্মত নন।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, মিলাদুন্নবী নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়। অনেকে বলেন, মিলাদুন্নবী বলতে কিছু নেই। যারা বলেন এটা ঠিক না। মিলাদুন্নবী অর্থ নবীর জন্মগ্রহণ। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে মিলাদুন্নবীর দিন সবচেয়ে বড় রহমত ও আনন্দের দিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত চিলেন।