• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন
Headline
পাথরঘাটায় হরিণের মাংসসহ আটক-১ পঞ্চগড়ে সোলার প্রকল্পে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ সরকারের সমালোচনা করুন, তবে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা নয় : আবদুস সালাম কম দামে গাড়ি দিতে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ চায় বারভিডা বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছি : শফিকুর রহমান যেকোনও মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী একের পর এক কারিগরি ত্রুটি, নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না ভাবতে হবে: রিজভী সরকারের ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ টন গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই লেপার্ডের এক দশকের বন্দি জীবন

কুড়িগ্রামে সার চাইতে গিয়ে আসামি, গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া কৃষক

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, কু‌ড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণে বাধা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মামলার আসামিরা সবাই কৃষক। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার দুজন হলেন- উপজেলার গণাইয়েরকুটি গ্রামের আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় সার না পাওয়ার আশঙ্কায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার তিনি ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের গুদামে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ করা ৪৮৭ বস্তা সার ছিল। এর মধ্যে ডিএপি ২৩৫, টিএসপি ৯৫ ও এমওপি ১৫৭ বস্তা। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণের জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুদামে যান। সেখানে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই চলছিল।
এজাহারে কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় কয়েকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাকে ও সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালিগালাজ করা হয়। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার সময় হামলা চালিয়ে কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহত কৃষিকর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, মারধর, বেআইনিভাবে আটকে রাখা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক জানান, আমন মৌসুমে চাষাবাদের খরচ বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার আশায় তারা ডিলারের কাছে গিয়েছিলেন। সার না পাওয়ার আশঙ্কায় তারা সড়কে বিক্ষোভ করেন। কিন্তু উল্টো তারা মামলার আসামি হয়েছেন। দিনে ক্ষেতে কাজ করতে পারলেও রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না। তারা বলছেন, গ্রেফতার হওয়ার আতঙ্কে এক রকম বাড়ি ছাড়া এখন আমরা। সার চাওয়াটাই কী এখন আমাদের অপরাধ হলো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মামলার বাদী আব্দুল জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, সার বিতরণে অসহযোগিতা ও কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এজাহারে ১১ জনের নাম এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category