প্রভাত ডেস্ক: ঘর নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করলে অনেকেই প্রথমে ফার্নিচার, পর্দা, কার্পেট, শোপিস থেকে শুরু করে নানা ধরনের সাজসজ্জার সামগ্রী কেনার দিকে মনোযোগ দেন। কিন্তু ঘর সুন্দর করতে গিয়ে সবকিছু একসঙ্গে কিনতে গেলে বাজেট দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এমন কিছু জিনিসেও অর্থ খরচ হয়, যেগুলো ঘরের সৌন্দর্যের চেয়ে জায়গা কমানো এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলাই বাড়ায়।
ঘর সাজানোর আগে তাই কোন জিনিস সত্যিই প্রয়োজন আর কোনটি শুধু দেখতেই আকর্ষণীয় এই পার্থক্য করা জরুরি। বিশেষ করে ছোট ফ্ল্যাট বা সীমিত বাজেটের বাসায় অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চললে একই অর্থে ঘরকে আরও গোছানো ও আরামদায়ক করা সম্ভব।
অতিরিক্ত শোপিস
ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে কয়েকটি শোপিস ভালো লাগলেও প্রতিটি খালি জায়গা সাজানোর জন্য আলাদা সামগ্রী কেনার প্রয়োজন নেই। বেশি শোপিস ঘরকে উল্টো অগোছালো দেখাতে পারে। পাশাপাশি এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয় এবং ধুলাবালি জমার জায়গাও বাড়ে। তাই অনেক ছোট ছোট সাজসজ্জার সামগ্রীর বদলে একটি বা দুটি মানসম্মত ও অর্থবহ ডেকোরেশন বেছে নেওয়া বেশি কার্যকর।
প্রয়োজনের চেয়ে বড় ফার্নিচার
বড় সোফা, বিশাল সেন্টার টেবিল বা অতিরিক্ত বড় আলমারি দেখতে আকর্ষণীয় হলেও ঘরের আয়তনের সঙ্গে মানানসই না হলে এগুলো চলাচলের জায়গা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে অ্যাপার্টমেন্টে ফার্নিচার কেনার আগে ঘরের মাপ নেওয়া জরুরি। শুধু দেখতে সুন্দর লাগছে বলে বড় ফার্নিচারে অর্থ খরচ না করে জায়গার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আসবাব বেছে নেওয়া উচিত।
ব্যবহার না করা আসবাব
অনেক সময় ঘরে জায়গা থাকলেই মানুষ অতিরিক্ত চেয়ার, টেবিল, ছোট ক্যাবিনেট বা স্টোরেজ ইউনিট কিনে ফেলেন। পরে দেখা যায়, এগুলোর বেশির ভাগই নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে টাকা খরচের পাশাপাশি ঘরের খালি জায়গাও কমে যায়। নতুন কোনো আসবাব কেনার আগে সেটি সপ্তাহে বা মাসে কতবার ব্যবহার হবে, তা ভেবে দেখা ভালো।
শুধু সাজানোর জন্য কৃত্রিম গাছের অতিরিক্ত ব্যবহার
ইনডোর প্ল্যান্ট ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে পারে। তবে এমন অনেক কৃত্রিম গাছ বা ফুলের সাজসজ্জা রয়েছে, যেগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি অথচ ঘরের ব্যবহারে কোনো বাস্তব সুবিধা যোগ করে না। কিছু জায়গায় একটি জীবন্ত গাছ বা সহজ কোনো প্রাকৃতিক উপাদানও একই ধরনের সৌন্দর্য তৈরি করতে পারে। তাই ঘরের আকার ও আলো অনুযায়ী গাছ বেছে নেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।
অতিরিক্ত কুশন ও ডেকোরেটিভ বালিশ
সোফা বা বিছানায় কয়েকটি কুশন ঘরকে আরামদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কুশন কিনলে সেগুলো সংরক্ষণ, পরিষ্কার এবং নিয়মিত গুছিয়ে রাখার ঝামেলা বাড়ে। তাই শুধু রঙের মিলের জন্য একাধিক সেট কুশন না কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত সংখ্যক কুশন রাখা যেতে পারে।
শুধু ট্রেন্ড অনুসরণ করে কেনাকাটা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও একটি সাজসজ্জার ধরন জনপ্রিয় হলেই সেটি নিজের ঘরে ব্যবহার করা জরুরি নয়। আজকের ট্রেন্ড আগামী বছর পুরোনো মনে হতে পারে। ফলে শুধুমাত্র সাময়িক ট্রেন্ড অনুসরণ করে দামি ডেকোরেশন বা ফার্নিচার কিনলে পরে সেগুলো বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। বরং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে এমন নিরপেক্ষ ডিজাইন বেছে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।
অপ্রয়োজনীয় কার্পেট
কার্পেট ঘরকে আরামদায়ক ও আকর্ষণীয় করতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ঘরে বড় কার্পেট প্রয়োজন হয় না। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বড় কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার রাখা কঠিন হতে পারে। ঘরে শিশু বা পোষা প্রাণী থাকলে পরিষ্কার করার ঝামেলাও বাড়তে পারে। তাই ঘরের ব্যবহার ও পরিবেশ বিবেচনা করে কার্পেট কেনা ভালো।
শুধু সৌন্দর্যের জন্য অতিরিক্ত আলো
ঘরে সুন্দর আলো থাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিভিন্ন জায়গায় অপ্রয়োজনীয় ডেকোরেটিভ লাইট বসালে বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে। তারের ব্যবস্থাপনাও জটিল হয়ে ওঠে। মূল আলো, কাজের আলো এবং প্রয়োজনীয় অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট এই তিন ধরনের প্রয়োজন বুঝে ব্যবস্থা করলে কম খরচে ভালো পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
একসঙ্গে সবকিছু কেনা
ঘর সাজানোর সময় সবচেয়ে বড় অপ্রয়োজনীয় খরচ হতে পারে তাড়াহুড়ো করে একবারে সবকিছু কিনে ফেলা। এতে প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসের পার্থক্য করা কঠিন হয়। বরং আগে ঘরের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঠিক করে ধাপে ধাপে কেনাকাটা করলে বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু ঘরকে দৃষ্টিনন্দন করা নয়, বরং সেটিকে আরামদায়ক, ব্যবহারযোগ্য এবং সহজে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য করে তোলা। একটি ঘরে দামি বা অনেক জিনিস থাকলেই সেটি সুন্দর হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। বরং সঠিক মাপের ফার্নিচার, পর্যাপ্ত আলো, পরিমিত সাজসজ্জা এবং গোছানো পরিবেশই ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি ভূমিকা রাখে।
তাই ঘর সাজানোর আগে একটি সহজ হিসাব করা যেতে পারে জিনিসটি কি সত্যিই প্রয়োজন, নিয়মিত ব্যবহার হবে কি না এবং এটি রাখলে ঘরের জায়গা বা রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কতটা বাড়বে। এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর সন্তোষজনক না হলে সেই কেনাকাটা কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়াই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।