মো. রেজাউল করিম, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল ইসলাম (৩৩)-এর মরদেহ অবশেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কয়েক দফা পতাকা বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে বিজিবির মাধ্যমে তার মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীমান্তের ৩৪০/৩-এস দানাজপুর ক্যাম্প সংলগ্ন শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এর আগে সারাদিন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ নিহত আসাদুলের মরদেহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করে। বিজিবি পরবর্তীতে মরদেহটি স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর প্রায় ৪টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে আসাদুল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ভারতের কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আসাদুল ইসলাম পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের মৃত ওয়াজ উদ্দীনের একমাত্র ছেলে।
এ ঘটনায় উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম এবং একই এলাকার মুনসা নারায়ণের ছেলে উদা ভারতের রায়গঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে জেল দিয়েছে আদালত।
নিহতের মরদেহ দেশে ফেরার খবরে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রায় একদিন অপেক্ষার পর আসাদুলের মরদেহ ফিরে পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো তাকে দেখার সুযোগ পান।