• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
পোশাকশিল্পে অস্থিরতা, সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে: জামায়াত আমির ভাঙচুর-সহিংসতায় বিদেশি ক্রেতারা ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন পোশাক খাতে অস্থিরতার নেপথ্যে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও কিছু শিল্পমালিক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিকের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগে আটক ১ আবার মিরপুরে সড়কে নামার চেষ্টা পোশাকশ্রমিকদের ডেঙ্গুতে মৃত্যু, স্যালাইন নেই: স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কোথায়? কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা দু’দিনের সফরে কলকাতার ৫ জায়গায় থেকে ঘুরে আসুন
ধাওয়া–কাঁদানে গ্যাসে ছত্রভঙ্গ

আবার মিরপুরে সড়কে নামার চেষ্টা পোশাকশ্রমিকদের

Reporter Name / ৭ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে সড়কে নামার চেষ্টা করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গে করতে ধাওয়া দেয় পুলিশ। পাশাপশি কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি শেল ছোড়ে তারা। পরে মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড় এলাকায়ও শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাঁদের হটিয়ে দেয় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রূপনগর এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দলে দলে শ্রমিকেরা মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে প্রশিকা মোড়ের দিকে আসতে থাকেন। তাঁরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। পরে শ্রমিকেরা সেখান থেকে সরে যান।
মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা দুই দিনের বিক্ষোভ–সংঘর্ষের পর আজ সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মিরপুর-১০ নম্বর ও আশপাশের এলাকার সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে কোনো বিঘ্ন দেখা যায়নি। পথচারী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেছে।
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের পরিস্থিতি ও পুলিশের সতর্ক অবস্থান নিয়ে আজ সকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম।
মহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গতকাল রোববারের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মহিদুল ইসলাম বলেন, গতকালের ঘটনায় শুধু শ্রমিকেরাই জড়িত ছিলেন, এমন নয়; তদন্তে শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অমান্য করে দেশের ক্ষতি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকালের ঘটনায় কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন করেন। জবাবে মহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে বিভিন্ন স্থানে যাঁরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের সতর্ক অবস্থানের বিষয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। তাঁদের কার্যক্রম চলমান আছে। তাঁরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গতকাল রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সকাল আটটার দিকে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। পরে শ্রমিকেরাও বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। গতকাল একপর্যায়ে দুপুরের দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category